২ সেকেন্ডের সেই ইশারা! পুতিন ও অজিত দোভালের কোন গোপন সমীকরণে কেঁপে উঠল গোটা বিশ্ব?

যখন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাক্ষাৎ ঘটে, তখন সেই মুহূর্তের উষ্ণতা বিশ্ববাসীর নজর কাড়ে। তবে এই হাই-প্রোফাইল কূটনৈতিক ফ্রেমের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তৈরি হয় তখন, যখন প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে কথা বলার সময় পুতিনের নজর পড়ে তাঁর ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত দোভালের ওপর। পুতিন ও দোভাল—উভয়ের মুখেই এক গভীর রহস্যময় হাসি ফুটে ওঠে। এরপর পুতিন নিজের হাত ওপরে তুলে এক বিশেষ ও অনন্য ভঙ্গিতে ভারতের এই শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিককে অভিবাদন জানান। আন্তর্জাতিক কূটনীতির জটিল দুনিয়ায় কোনো রাষ্ট্রপ্রধান যখন অন্য দেশের কোনো নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে এভাবে ব্যক্তিগত ও পরম আদরে গুরুত্ব দেন, তখন তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে ধরা হয়।

কূটনৈতিক মহলের মতে, পুতিন এবং দোভালের মধ্যে একটি নিভৃত ও বিশেষ ‘ইনটেলিজেন্স কানেকশন’ বা গুপ্তচর সংযোগ রয়েছে। উভয়ের সুদীর্ঘ অতীত জীবনের পটভূমি প্রায় একই ধাঁচের। দুজনেই তাঁদের জীবনের সোনালী সময় কাটিয়েছেন বিশ্বের অন্যতম দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা সংস্থায়। এই কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুতিন ও দোভালের এই ঐতিহাসিক ২ সেকেন্ডের সাক্ষাৎকে ‘স্পাই টু স্পাই স্যালুট’ বা গুপ্তচরের প্রতি গুপ্তচরের অভিবাদন বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এই অদৃশ্য ও দুর্ভেদ্য বন্ধনের পেছনের আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তাঁদের বর্ণময় অতীত জীবনের গভীরে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির (KGB) হয়ে কাজ করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন এবং তিনি লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB)-তে সুদীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে দেশসেবা করেছেন অজিত দোভাল, যিনি প্রায় ৭ বছর পাকিস্তানে আন্ডারকভার এজেন্ট বা ছদ্মবেশী গুপ্তচর হিসেবে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাটিয়েছিলেন।

পুতিন এবং দোভালের ব্যক্তিত্বে এমন কিছু আশ্চর্যজনক মিল রয়েছে, যা তাঁদের এই গভীর সখ্যকে আরও জোরালো করে তোলে। প্রথমত, দুজনেই মুখের কথার চেয়ে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা শারীরিক ভঙ্গি ও ইশারা বুঝতে অনেক বেশি দক্ষ। দ্বিতীয়ত, দুজনেই কঠোর শক্তি বা ‘হার্ড পাওয়ার’-এ অগাধ বিশ্বাসী। তাঁদের দুজনেরই সুদৃঢ় ধারণা যে, শত্রুকে যদি আলোচনার মাধ্যমে বা সহজে না বাগে আনা যায়, তবে তাকে শক্তির প্রদর্শন করে পুরোপুরি বশে আনতে হয়। মাতৃভূমির প্রতি অসীম ও চরম দেশপ্রেম এবং যেকোনো মিশনে ‘জিরো এরর’ বা বিন্দুবিসর্গ ভুল না করার নীতি তাঁদের আজকের এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। অতএব, পুতিন সেদিন দোভালকে দেখে যেভাবে স্মিত হেসে হাত তুলেছিলেন, তা কোনো সাধারণ কূটনৈতিক সৌজন্য ছিল না; বরং তা ছিল এক মাস্টার স্পাইয়ের পক্ষ থেকে অন্য এক মাস্টার স্পাইয়ের অতুলনীয় কৌশলগত দক্ষতার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন।