দিল্লিতে ব্রিকস শিখর সম্মেলনে ঐতিহাসিক মুহূর্ত! মোদীর মাস্টারস্ট্রোক স্টার্টআপ ফান্ডের ঘোষণায় কাঁপল বিশ্ব কূটনীতি

ভারতের মাটিতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী মর্যাদাপূর্ণ ব্রিকস সামিট ২০২৬ (BRICS Summit 2026)-এর আজ মহা সমারোহে সমাপ্তি ঘটছে। নতুন দিল্লির বিশ্বমানের কনভেনশন সেন্টার ‘ভারত মণ্ডপম’-এ আয়োজিত এই শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে আজ কূটনৈতিক স্তরে একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিন সকালে সমস্ত রাষ্ট্রপ্রধানদের অফিশিয়াল গ্রুপ ফ্যামিলি ফটো সেশনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রধান ওপেন সেশনের জমকালো সূচনা হয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
আজ সকাল থেকেই ভারত মণ্ডপমে ব্রিকস সদস্য দেশগুলির পাশাপাশি পার্টনার দেশ এবং আউটরিচ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের ঐতিহাসিক আগমন শুরু হয়। বর্তমানে ব্রিকস জোটে মোট ১১টি শক্তিশালী দেশ রয়েছে—ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং ইন্দোনেশিয়া। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে সমস্ত বিশ্বনেতাদের এক ফ্রেমে বন্দি করে অফিশিয়াল ফ্যামিলি ফটো সম্পন্ন হয়। ঠিক সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মূল ওপেন সেশনের সূচনা করেন। এদিনের সেশনের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল—মজবুতি, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করা। এই ওপেন সেশনের মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী মোদী একটি বিশেষ ‘স্টার্টআপ ইনোভেশন ফান্ড’ গঠনের অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও সময়োপযোগী প্রস্তাব পেশ করেছেন।
সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক ব্যস্ততাও তুঙ্গে রয়েছে। আজ সারাদিন ধরে তিনি মোট সাতটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর এই ঠাসা শিডিউলের মধ্যে রয়েছে দুপুর আড়াইটায় কাজ়াখস্তানের রাষ্ট্রপতি কাসিম-জোগার্ত টোকায়েভ, বেলা ৩টায় ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ আর. মার্কোস জুনিয়র, সাড়ে ৩টায় মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাতাহ আল-সিসি এবং বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি সিরিল রামাফোসার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। এছাড়াও বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে যথাক্রমে বुरुন্ডি, নাইজেরিয়া এবং উগান্ডার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও একান্ত বৈঠক করার কথা রয়েছে মোদীর।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভারত চতুর্থবারের মতো সফলভাবে ব্রিকসের ঘূর্ণায়মান সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে। এর আগে ভারত ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালেও এই পদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছে। এবারের সভাপতিত্বের মূল ভাবনা বা থিম রাখা হয়েছে—’মানবতা প্রথম’ (Humanity First)-এর পবিত্র নীতিকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন ও টেকসই সহযোগিতা গড়ে তোলা। ভারতের এই ঐতিহাসিক কার্যকালে দেশের ২৫টিরও বেশি শহরে ৩৫০টিরও বেশি উচ্চপর্যায়ে বৈঠক ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯.৫ শতাংশ, বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্বকারী এই শক্তিশালী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়ে ভারত বিশ্বমঞ্চে এক নতুন ও অপ্রতিরোধ্য অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।