হরমনপ্রীতের সঙ্গে হাত না মেলানোর খেসারত! কড়া শাস্তির মুখে বাংলাদেশি অধিনায়ক নিগার সুলতানা

দুবাইতে অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপ ২০২৬-এর প্রথম সেমিফাইনালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার লড়াই ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে এক চরম ক্রীড়াসুলভ আচরণের বিতর্ক। ম্যাচের টসের সময় ভারতীয় অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের সঙ্গে হাত মেলাতে এবং কথা বলতে অস্বীকার করেন বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ক্রিকেটে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা, আর যার জেরে এবার নিজের অধিনায়কত্ব হারানোর বড় বিপদের মুখে পড়েছেন খোদ বাংলাদেশি অধিনায়ক।

পুরো বিতর্ক থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি ইতিমধ্যেই নিজেদের সম্পূর্ণভাবে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। বিসিবি মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু এ বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, হরমনপ্রীতের সঙ্গে হাত না মেলানোর সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে নিগার সুলতানার ব্যক্তিগত ব্যাপার ছিল। বোর্ডের কোনো নির্দেশ বা সমর্থনের বালাই এর মধ্যে নেই, কারণ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সব দেশের সঙ্গেই সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশ অধিনায়কদের এই মনকষাকষি বা তিক্ততা নতুন কোনো বিষয় নয়। এর সূত্রপাত হয়েছিল সেই ২০২৩ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচ থেকে, যেখানে এলবিডব্লিউ আউট হওয়ার পর মেজাজ হারিয়ে স্টাম্পে ব্যাট দিয়ে আঘাত করেছিলেন হরমনপ্রীত এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ট্রফি ভাগাভাগির সময় আম্পায়ারদের কটাক্ষ করেছিলেন। সেবার তার প্রতিবাদে নিগার সুলতানা নিজের পুরো দলকে যৌথ ফটোসেশন থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে জুনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রসঙ্গ উঠলে নিগার ব্যঙ্গ করে বলেছিলেন যে তিনি হারমনপ্রীত নন যিনি স্টাম্প ভেঙে বেড়াবেন। এমনকি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়ও দুই অধিনায়কের মধ্যে হাত মেলানোর মতো সৌজন্য দেখা যায়নি।

এদিকে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। মাঠের বাজে পারফরম্যান্স এবং এই ধরনের শৃঙ্খলাহীন ও জেদি আচরণের কারণে নিগারের নেতৃত্ব এখন প্রবল প্রশ্নের মুখে। বিসিবি সূত্রের খবর, এশিয়ান গেমসের পরেই দল গঠন এবং অধিনায়কত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে একটি অত্যন্ত কঠোর ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বোর্ড।