ব্রিকসে রাশিয়ার মাস্টারস্ট্রোক! শস্য বিনিময়ের এই নতুন পরিকল্পনাতেই বেঁচে যাবে ২৩,৮৯০ কোটি টাকা?

বিশ্বের প্রধান কৃষি উৎপাদনকারী দেশগুলিকে এক ছাতার তলায় এনে শস্য বাণিজ্যের জন্য এক সম্পূর্ণ নতুন প্ল্যাটফর্ম গড়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিল ব্রিকস (BRICS)। নয়াদিল্লিতে সদ্য সমাপ্ত ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের যৌথ ঘোষণাপত্রে ব্রিকস গ্রেইন এক্সচেঞ্জ বা শস্য বিনিময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলি বছরে প্রায় ২.৫ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ২৩,৮৯০ কোটি টাকা সাশ্রয় করতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এই প্রকল্পের পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রজেক্ট শুরু হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে এর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু করা হবে। প্রচলিত মার্কিন ফিউচার ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম সিএমই (CME)-এর একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে এই এক্সচেঞ্জকে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার যুক্তি, বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মগুলি নির্দিষ্ট কিছু পশ্চিমা দেশের স্বার্থে পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে। তাই ব্রিকসভুক্ত দেশগুলির নিজেদের মধ্যে শস্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ ও লেনদেনের জন্য নিজস্ব ও স্বাধীন পরিকাঠামো থাকা অত্যন্ত জরুরি।

শুধু গম বা চালের মতো নির্দিষ্ট কিছু শস্যের মধ্যে এই বাণিজ্য প্ল্যাটফর্মের পরিধি সীমিত রাখা হচ্ছে না। পরবর্তীতে এর আওতা অন্যান্য প্রধান কৃষি পণ্য পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন বাজারের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং কৃষক স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখতে এই গ্রেইন এক্সচেঞ্জ বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, চলতি শীর্ষ সম্মেলনে কৃষকদের স্বার্থে আরও নতুন চারটি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ ও নীতি প্রবর্তন করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কৃষি বাণিজ্যের পুরো সমীকরণটাই বদলে দিতে পারে।