নতুন বছরের শুরুতেই বাংলার রেলযাত্রীদের জন্য রাজকীয় উপহার নিয়ে এল কেন্দ্র। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের প্রথম ‘স্লিপার’ বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের যাত্রা শুরু হতে চলেছে এই বাংলা থেকেই। আগামী ১৭ জানুয়ারি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অত্যাধুনিক ট্রেনের উদ্বোধন করবেন। রেল সূত্রে খবর, প্রথম দিন ট্রেনটি মালদা টাউন থেকে কামাখ্যার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। এরপর ১৮ বা ১৯ জানুয়ারি থেকেই শুরু হতে পারে এর নিয়মিত বাণিজ্যিক পরিষেবা।
স্লিপার বন্দে ভারতের সময়সূচি (উদ্বোধনের দিন):
উদ্বোধনী স্পেশাল ট্রেনটি মালদা টাউন থেকে দুপুর ১টায় যাত্রা শুরু করবে। একনজরে দেখে নিন ওই দিনের স্টপেজ ও সময়:
| স্টেশন | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| মালদা টাউন | — | ১৩:০০ |
| আলুয়াবাড়ি রোড | ১৫:০০ | ১৫:০৫ |
| নিউ জলপাইগুড়ি | ১৫:৪৫ | ১৫:৫৫ |
| জলপাইগুড়ি রোড | ১৬:৩০ | ১৬:৩৫ |
| নিউ কোচবিহার | ১৭:৪৫ | ১৭:৫০ |
| নিউ আলিপুরদুয়ার | ১৮:০৫ | ১৮:১০ |
| নিউ বঙ্গিগাঁও | ১৯:৪০ | ১৯:৪৫ |
| রাঙ্গিয়া | ২১:১০ | ২১:১৫ |
| কামাখ্যা | ২২:৪৫ | — |
বাণিজ্যিক যাত্রার সময়সূচি: রাত কাটবে ঘুমিয়েই!
যদিও পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে এখনও চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি, তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী ২৭৫৭৫ হাওড়া-কামাখ্যা স্লিপার বন্দে ভারত এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সেটি পরদিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে পৌঁছাবে কামাখ্যায়।
ফিরতি পথে ২৭৫৭৬ কামাখ্যা-হাওড়া বন্দে ভারত এক্সপ্রেসটি কামাখ্যা থেকে ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে এবং পরদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এসে পৌঁছাবে হাওড়া স্টেশনে।
কোন কোন স্টেশনে থামবে এই ট্রেন?
হাওড়া ও কামাখ্যার মাঝে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে স্টপেজ দেওয়া হয়েছে। ট্রেনটি ব্যান্ডেল জংশন, নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া জংশন, আজিমগঞ্জ, নিউ ফারাক্কা জংশন, মালদা টাউন, আলুবাড়ি রোড হয়ে এনজেপি ও অসমের পথে রওনা দেবে।
পকেটের সাধ্যের মধ্যেই কি ভাড়া?
রেলমন্ত্রী আগেই জানিয়েছেন, সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখেই স্লিপার বন্দে ভারতের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। আনুমানিক ভাড়ার তালিকাটি হলো:
থ্রি-টায়ার এসি: প্রায় ২,৩০০ টাকা।
টু-টায়ার এসি: প্রায় ৩,০০০ টাকা।
ফার্স্ট এসি: প্রায় ৩,৬০০ টাকা।
(দ্রষ্টব্য: এই ভাড়ার মধ্যেই যাত্রীদের খাবারের খরচ বা ক্যাটারিং চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।)
অত্যাধুনিক এই ট্রেনে থাকছে উন্নতমানের বার্থ, ঝাঁকুনিহীন যাত্রা এবং বিমানের মতো ইন্টেরিয়র। উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটনে এই ট্রেন এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।





