২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে নজিরবিহীন অবনতি ঘটেছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত নতুন সরকার গঠনের পর তাতে আমূল পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের শীতলতা কাটিয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের ‘রিসেট’ বাটন টিপতে মঙ্গলবার ভারত সফরে এসেছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্পর্কের এই ‘বরফ গলা’র ক্ষেত্রে ভারতই প্রথম পা বাড়িয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া কিংবা ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ—নয়াদিল্লির এই ইতিবাচক বার্তাগুলো ঢাকার সঙ্গে কাজ করার প্রবল আগ্রহকেই স্পষ্ট করে। সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. শফিউল্লাহর মতে, “ভারত বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে।”
তবে এই যাত্রায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ভিসা’ সমস্যা। উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ভারতীয়দের জন্য ভিসা উন্মুক্ত করলেও ভারত এখনও পর্যটন ভিসা পুরোপুরি চালু করেনি। এই সফরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকে ভিসা জট কাটানো, পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি বৃদ্ধি এবং গঙ্গা ও তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো প্রাধান্য পাবে। গত বছরের সীমান্ত উত্তেজনা, আইপিএল থেকে ক্রিকেটার বাদ দেওয়া এবং বিশ্বকাপ বর্জনের মতো তিক্ত স্মৃতি কাটিয়ে দুই দেশ এখন ‘মর্যাদার ভিত্তিতে’ নতুন অধ্যায় শুরুর অপেক্ষায়।





