২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে বাংলার মাটি যে এবার বড় কোনো পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে, তার প্রমাণ মিলল বীরভূমের সিউড়িতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রণহুঙ্কারে। বৃহস্পতিবার সিউড়ির হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণের ধার কয়েক গুণ বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন— “মোদি এদের ছাড়বে না… বেছে বেছে হিসাব হবে।” কিন্তু কাদের থেকে এই হিসাব নেওয়ার কথা বলছেন তিনি?
কাদের থেকে হিসাব নেওয়া হবে? প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত তিনটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দিকে আঙুল তোলা হয়েছে:
দুর্নীতিবাজ নেতা ও মন্ত্রী: নাম না করে তৃণমূলের সেই সমস্ত প্রভাবশালী নেতাদের ইঙ্গিত করেছেন মোদি, যারা শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে বালি ও কয়লা পাচারের মতো কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত। তিনি স্পষ্ট করেন, সাধারণ মানুষের হকের টাকা যারা লুট করেছে, তাদের জেলের ভাত খেতেই হবে।
দুর্নীতিতে মদত দেওয়া আধিকারিক: প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় ছিলেন সেই সব পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা, যারা শাসক দলের ‘ক্যাডার’ হিসেবে কাজ করছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, যারা আইনের রক্ষক হয়ে ভক্ষকের কাজ করছেন, তাঁদের ফাইলও তৈরি হচ্ছে।
সিন্ডিকেট রাজের হোতা: বীরভূমের মতো জেলায় বালি ও পাথর খাদানের যে ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চলে, তার পান্ডাদের থেকে কড়ায় গন্ডায় হিসাব বুঝে নেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
‘ভয় নয়, ভরসা চাই’: এদিন সিউড়ির সভায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশে মোদির বার্তা ছিল অত্যন্ত কৌশলী। তিনি বলেন, “তৃণমূল আপনাদের ভয় দেখাচ্ছে? কিন্তু মনে রাখবেন, আপনাদের সেই ভয়ের দিন শেষ। এবার ভরসা রাখুন ডবল ইঞ্জিন সরকারের ওপর। যারা আপনাদের ওপর অত্যাচার করছে, তাদের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে।”
রাজনৈতিক গুরুত্ব: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূমের সাংগঠনিক ডামাডোলকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের মনে সাহস জোগাতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই ‘হিসাব হবে’ হুঙ্কার আদতে তৃণমূলের ব্লক স্তরের নেতা ও নিচুতলার কর্মীদের প্রতি একটি কড়া সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিউড়ির জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে মোদির এই গর্জন নির্বাচনের ফলাফলকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলবে। তবে ‘বেছে বেছে হিসাব’ করার এই মন্তব্য যে শাসক শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিশ্চিত।





