মেসি শোতে চূড়ান্ত অব্যবস্থা! ‘ভালো প্ল্যানিং হলেই বিশৃঙ্খলা হত না’, কলকাতার আয়োজন নিয়ে কড়া সমালোচনা প্রাক্তন তারকার

কলকাতায় লিওনেল মেসির আগমনকে ঘিরে যুবভারতীতে যে ভিড় ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটল, তা যেন এক বড় শিক্ষা হয়ে রইল। শহরের অন্যতম প্রধান স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই বাধ্য হয়ে শেষ করতে হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে এবং নিরাপত্তার খাতিরে প্রধান অতিথি লিওনেল মেসিকে দ্রুত মাঠ থেকে সরিয়ে নিতে হয়। পুরো পরিস্থিতি কতটা গুরুতর ছিল, তা প্রকাশ্যে আনলেন প্রাক্তন ফুটবল তারকা মেহতাব হোসেন।
মারাদোনার সময়ের উদাহরণ:
মেহতাব হোসেন আয়োজন নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “আমি মারাদোনার সময়ে দেখেছিলাম, সানরুফ ছিল গাড়িতে। সেই গাড়ি করে মাঠ প্রদক্ষিণ করানো হয়েছিল। একইভাবে মেসিকেও যদি গাড়ি থেকে না নামিয়ে গাড়ি করে মাঠের চারপাশে প্রদক্ষিণ করানো হতো, তাহলে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হতো না।”
মেহতাবের মতে, বিশৃঙ্খলার মূল কারণ ছিল পরিকল্পনার অভাব। তিনি যোগ করেন, “যদি পরিকল্পনা আরও ভালো হত তাহলে বিশৃঙ্খলা হত না। এই একই অনুষ্ঠান কিন্তু হায়দরাবাদ ও দিল্লিতেও সুষ্ঠভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।”
মেহতাবের এই মন্তব্য আয়োজক সংস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকে স্পষ্ট ইঙ্গিত করছে। মেসির মতো আন্তর্জাতিক সুপারস্টারকে সামলাতে শুধুমাত্র দর্শকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করাই যথেষ্ট নয়। গাড়ি, সানরুফ, ভিআইপি প্রবেশপথ এবং নিরাপত্তা জোনের সুপরিকল্পিত সমন্বয় জরুরি ছিল।
যুবভারতীর ঘটনা স্পষ্টতই দর্শক ব্যবস্থাপনা ও পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অভাবকে নির্দেশ করে। অতিরিক্ত উৎসাহী দর্শক প্রথমে স্টেডিয়ামে ঢোকার চেষ্টা, এবং কিছু ভক্তের সীমারেখা অমান্য করে মেসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা করার প্রচেষ্টা পরিস্থিতিকে হাতের বাইরে নিয়ে যায়।
শেষ পর্যন্ত, এই ঘটনা একদিকে যেমন ভক্তদের আনন্দের মুহূর্ত এনে দিয়েছে, অন্যদিকে এটি এক সতর্কবার্তা হয়ে রয়ে গেছে। মেহতাব হোসেনের কথায় স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সকল বিষয়কে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। দর্শক, সেলিব্রিটি এবং নিরাপত্তা—এই তিনটি উপাদানের সঠিক সমন্বয় ছাড়া ভবিষ্যতে এমন বিশৃঙ্খলা এড়ানো অসম্ভব।