‘মেসিকে ব্যবসায় এনেছিল!’ যুবভারতীর বিশৃঙ্খলায় সুকান্ত মজুমদারের ভয়ঙ্কর অভিযোগ, কাঠগড়ায় মমতা সরকার

লিওনেল মেসির কলকাতা সফর ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সৃষ্ট চরম বিশৃঙ্খলা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নিয়েছে। এরই মধ্যে শনিবারের এই ঘটনায় রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতাকে দায়ী করে সরব হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার।

কলকাতায় যখন লাগামছাড়া বিশৃঙ্খলা, তখন হায়দ্রাবাদের অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে শেষ হয়। এই প্রসঙ্গে রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “অনেক শহর কলকাতার থেকে এগিয়ে। এখানে জলের বোতলের দাম দেড়শো থেকে তিনশো টাকা নেওয়া হয়েছে। সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। মনে হচ্ছে ব্যবসা করার জন্যই মেসিকে নিয়ে এসেছিল।”

কটাক্ষের সুরে তিনি অভিযোগ করেন, “মেসির সঙ্গে ছবি তুলল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির লোক, অথচ সাধারণ মানুষ, যারা টাকা দিয়ে টিকিট কেটে এসেছিলেন তারা দেখতে পেলেন না।”

সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগের মূল লক্ষ্য ছিল পুলিশ এবং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তিনি বলেন, “পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আসলে যতক্ষণ না মালকিন বলবে পুলিশ কোনো কাজ করবে না।”

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাই মেসির অনুষ্ঠানকে হাইজ্যাক করেছেন। তাঁর দাবি, আয়োজক ও মেসির আশপাশে থাকা ব্যক্তিরা উভয়ই শাসক দলের সঙ্গে যুক্ত: “এটা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ব্যবস্থাপনা। আয়োজকরা নিজেরাই তৃণমূলের লোক ছিল। এখন তৃণমূল দেখানোর চেষ্টা করছে যে, তারা আলাদা, কিন্তু তারা তা নয়। উভয়ই এক। মেসির আশপাশে যারা ছিল, তারা সবাই তৃণমূলের লোক।”

শনিবার সকাল থেকেই মেসির আগমন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে ছিল। হাজার হাজার দর্শক কয়েক হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে এক ঝলক দেখার আশা নিয়ে যুবভারতীতে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু ভিআইপি ব্যক্তি, সেলিব্রিটি এবং নিরাপত্তারক্ষী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মঞ্চে অবস্থানের কারণে গ্যালারিতে থাকা সাধারণ মানুষ ফুটবলের এই স্বপ্নের তারকাকে কার্যত দেখতেই পাননি। মেসির মাঠে উপস্থিতি ছিল মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য এবং নির্ধারিত স্টেডিয়াম ল্যাপও সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ক্ষুব্ধ দর্শকরা গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে আসেন, চেয়ার ভেঙে বোতল ছোড়েন এবং ব্যানার ভেঙে রীতিমতো তাণ্ডব চালান। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা বাহিনী হিমশিম খায় এবং পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে দ্রুত মেসিকে স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনা এতটাই খারাপ ছিল যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও মাঝপথ থেকে ফেরত যেতে হয়। পরে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মেসির কাছে ক্ষমা চান এবং গোটা ঘটনার জন্য অব্যবস্থাকেই দায়ী করেন।