“মেয়ের মৃত্যুতে পরিবার শোকস্তব্ধ, আর আপনারা ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ফুলমালা দিচ্ছেন?” সংসদে হুঙ্কার প্রিয়াঙ্কার

নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়ম ও আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন নিয়ে লোকসভায় দাঁড়িয়ে কেন্দ্র সরকারকে ছাঁচাছোলা আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন— আন্দোলনরত নিরপরাধ ছাত্রছাত্রীদের ওপর কার নির্দেশে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান এবং ছররা গুলি (Pellet Guns) চালানো হলো?

একইসঙ্গে পরীক্ষা বিভ্রাটের জেরে ইস্তফা দেওয়া প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বিজেপির সাংসদদের পুস্পবৃষ্টি ও ‘জিন্দাবাদ’ স্লোগানে স্বাগত জানানোর চরম নিন্দা জানান তিনি।

‘মহারাষ্ট্রে আত্মঘাতী ছাত্রীর কান্না, আর সংসদে উদযাপিত প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী’

সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রকে নিশানা করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন:

“যুবসমাজ আজ চরম হতাশ। সিস্টেমে ভরসা হারিয়ে ফেলছে। পরশু প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করলেন, আর গতকাল মকরদ্বারে শাসকদলের সদস্যরা তাঁকে যেন সুপারস্টারের মতো ‘জিন্দাবাদ’ স্লোগানে স্বাগত জানালেন! কিসের গৌরব আপনাদের? কিসের অহঙ্কার? চরম বিড়ম্বনার বিষয় হলো, যখন এখানে তাঁকে মুকুট পরানো হচ্ছিল, তখন মহারাষ্ট্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মঘাতী এক ছাত্রীর পরিবার চরম শোকে নিমজ্জিত ছিল।”

‘শিক্ষার্থীরা কি সন্ত্রাসবাদী?’

আন্দোলন চলাকালীন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ছাত্রীর কথা তুলে ধরে প্রিয়াঙ্কা প্রশ্ন তোলেন, কার নির্দেশে পুলিশি বলপ্রয়োগ করা হয়েছে?

  • প্রিয়াঙ্কার প্রশ্ন: “মেয়েদের জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করার নির্দেশ কে দিয়েছিল? দেশের তরুণদের ওপর একে-৪৭ ও পেলেট গান কেন চালানো হলো? তারা কি কোনো সন্ত্রাসবাদী ছিল?”

  • তিনি দাবি করেন, আজ শুধু কংগ্রেস নয়, দেশের কোটি কোটি অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই উত্তর চান।

শিক্ষা ব্যবস্থায় খামতি ও বেকারত্ব

নিজের বক্তব্যের শেষাংশে কংগ্রেস সাংসদ অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে প্রায় ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও একজন অপরাধীরও সাজা হয়নি। তিনি দাবি করেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আরএসএস (RSS)-এর লোকদের বসিয়ে শিক্ষা খাতকে ফাঁপা করে দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে শিক্ষার বরাদ্দ কমানো এবং আকাশছোঁয়া বেকারত্ব আজ দেশের যুবসমাজকে অবসাদ ও আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।