“৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে চাই চকচকে রাস্তা!” পুজো আসার আগেই নবান্নের মেগা ডেডলাইন, বাতিল ইঞ্জিনিয়ারদের ছুটি!

বর্ষা এলেই ভাঙাচোরা রাস্তা আর খানাখন্দে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। তবে এবার দুর্গাপুজোর আগে সেই পুরনো ছবি একঝটকায় বদলে ফেলতে মেগা অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করল নবান্ন। লক্ষ্য একটাই— রাজ্যের গ্রাম থেকে শহর, সমস্ত রাস্তা হতে হবে চকচকে, মসৃণ এবং টেকসই! এই অভূতপূর্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজ্য প্রশাসনের তরফে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কড়া সময়সীমা (ডেডলাইন) বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কারণ, অক্টোবরের ১০ তারিখ থেকেই শুরু হচ্ছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পূর্ত, পঞ্চায়েত এবং নগরোন্নয়ন— এই তিন গুরুত্বপূর্ণ দফতরকে একসঙ্গে সমন্বয় রেখে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শেষ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

📌 নবান্নের মেগা মাস্টারপ্ল্যানে কী কী কড়া নির্দেশ?

  • ইঞ্জিনিয়ারদের ছুটি বাতিল ও মনিটরিং সেল: নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের ছুটি আপাতত বাতিল করা হয়েছে। প্রতিদিনের কাজের গতি ও গুণগত মান তদারকি করতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ ‘মনিটরিং সেল’।

  • বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার: যে সমস্ত এলাকায় জল জমার কারণে বারবার পিচের রাস্তা নষ্ট হয়, সেখানে কেবল সাধারণ পিচ নয়— উন্নত প্রযুক্তির ম্যাস্টিক অ্যাসফল্ট বা কাস্টিং কংক্রিটের টেকসই রাস্তা তৈরি করা হবে।

  • ঠিকাদারদের কড়া সতর্কবার্তা: কাজের গুণগত মানে এতটুকু গাফিলতি সহ্য করা হবে না। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে ঠিকাদার সংস্থাকে মোটা টাকার জরিমানা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ (Blacklist) করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

  • অর্থের অভাব হবে না: জেলাশাসকদের এই কাজের সরাসরি তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের অর্থ যাতে কোনোভাবে আটকে না থাকে, সে কারণে অর্থ দফতর ইতিমধ্যেই ধাপে ধাপে টাকা বরাদ্দ করা শুরু করে দিয়েছে।

“জোড়াতালি দিয়ে গর্ত বোজানো নয়, আধুনিকীকরণ ও আমূল সংস্কারই আসল লক্ষ্য। পুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে যাতে সাধারণ মানুষের একটুও যাতায়াতের সমস্যা না হয়, সেটাই সরকারের অগ্রাধিকার।” — নবান্ন সূত্রে বার্তা।

🔍 রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ:

পূর্বে ‘পথশ্রী’ বা ‘রাস্তাশ্রী’-র মতো প্রকল্প রাজ্যে বাস্তবায়িত হলেও, এতদিন কম সময়ের মধ্যে এমন বিশাল স্কেলে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ আগে দেখা যায়নি। বিরোধী শিবির অবশ্য এই পরিকল্পনাকে “পুজোর আগে সাময়িক চমক” বলে কটাক্ষ করেছে এবং এত কম সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তবে সমস্ত সমালোচনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে নির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যেই রাজ্যের সব গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ভোল বদলে দিতে একদম বদ্ধপরিকর নবান্ন!