২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট বেজে গেছে। প্রচারের ময়দান থেকে এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধের ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নদীয়ার বেথুয়াডহরির জনসভা থেকে সরাসরি মা-বোনেদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা—ভোট দিতে বাধা দিলে হাতে ‘ঝাঁটা’ তুলে নিন।
“সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করুন” কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CRPF, BSF) কড়া নজরদারি ও নাকা চেকিং নিয়ে এদিন চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানান মমতা। জগন্নাথ ধামের রথযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যদি দেখেন সেন্ট্রাল ফোর্স আপনার গ্রাম আটকাচ্ছে, তবে খিলের ঝাড়ু হাতে রাখুন। রাস্তা পরিষ্কার করতে করতে যাবেন, কিন্তু নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার ছাড়বেন না।” তাঁর সাফ কথা, কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি ভোট দিতে বাধা দেয়, তবে মহিলারা যেন রুখে দাঁড়ান।
নারীদের সম্মানে আঘাতের অভিযোগ এদিন আরও এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, “আমি শুনেছি আইটিবিপি (ITBP) ও বিএসএফ (BSF) বলছে মেয়েদের শরীর চেক করা হবে। মেয়েদের গায়ে হাত দেবে! এত সস্তা? আগে ভোট দিন, তারপর এর কড়া প্রতিবাদ করবেন।” কেন্দ্রীয় বাহিনীর এই অতি-সক্রিয়তাকে তিনি নারীদের সম্মানে আঘাত হিসেবেই দেখছেন।
২০০ গাড়ির ‘হামলা’ ও ২৫ দিনের খেলা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, উত্তরপ্রদেশ থেকে ২০০ গাড়ি ভর্তি কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করার জন্য। আমজনতাকে অভয় দিয়ে তিনি বলেন, “কেউ ভয় পাবেন না। এটা ১৫ থেকে ২৫ দিনের খেলা। তারপর বুঝবে ঠেলার নাম বাবাজি!” অর্থাৎ ভোট মিটে গেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ভোটের সমীকরণ ও লড়াই এবারের বিধানসভা নির্বাচন দুই দফায় হতে চলেছে—২৩ ও ২৯ এপ্রিল। আগামী ৪ মে ফলাফল। নিজে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়ছেন মমতা। রাজ্যে সুষ্ঠু ভোট করাতে কমিশন যখন রেকর্ড পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে, তখন মমতার এই ‘ঝাঁটা’ নিদান ভোটমুখী বাংলায় উত্তেজনার পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।





