রাজধানীর যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে কোমর বেঁধে নামল দিল্লি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই দিল্লি মেট্রো এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভার প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। দূষণ হ্রাস এবং যানজটমুক্ত দিল্লি গড়াই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।
মেট্রোর চতুর্থ পর্যায়: ডিসেম্বরেই আসছে খুশির খবর
বর্তমানে ৪১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ দিল্লি মেট্রোর নেটওয়ার্ক আরও ১০০ কিলোমিটার বাড়তে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চতুর্থ পর্যায়ের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত করিডোরগুলির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন।
২০২৬ ডিসেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা: তুঘলকাবাদ থেকে অ্যারোসিটি, মজলিস পার্ক থেকে আর.কে. আশ্রম এবং কৃষ্ণ পার্ক এক্সটেনশন থেকে দীপালি চকের মতো গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলি চালু হয়ে যাবে।
নতুন সংযোগ: জনকপুরী পশ্চিম থেকে কৃষ্ণ পার্ক এক্সটেনশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে ইতিপূর্বেই কাজ শুরু হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে লাজপত নগর থেকে সাকেত এবং রিথালা থেকে কুন্ডলী পর্যন্ত মেট্রো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
ম্যাজিক দেখাবে ‘দোতলা ফ্লাইওভার’
দিল্লির ভিড় সামলাতে এবার আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশ্রয় নিচ্ছে সরকার। তৈরি হচ্ছে দোতলা কাঠামো, যেখানে একতলায় চলবে গাড়ি এবং ওপর দিয়ে ছুটবে মেট্রো।
আজাদপুর থেকে ত্রিপোলিয়া চক: ২.১৬ কিমি দীর্ঘ ফ্লাইওভারটির ৭৩% কাজ শেষ। খরচ হচ্ছে ২৬৪.২৭ কোটি টাকা।
যমুনা বিহার থেকে ভজনপুরা: এই ১.৪০ কিমি ফ্লাইওভারটির কাজ ৮৫% সম্পন্ন। দ্রুত এটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
দক্ষিণ দিল্লির জট কাটাতে ৬-লেনের মেগা ফ্লাইওভার
সাউথ দিল্লির যাতায়াত সহজ করতে এমবি রোডে (MB Road) চলছে কর্মযজ্ঞ।
সাকেত সিটি থেকে সঙ্গম বিহার পর্যন্ত ৬-লেনের ২.৪৮ কিমি দীর্ঘ ফ্লাইওভার তৈরি হচ্ছে।
মা আনন্দময়ী মার্গ থেকে পুল প্রহ্লাদপুর পর্যন্ত আরও একটি ফ্লাইওভারের নকশা চূড়ান্ত পর্যায়ে।
জমি অধিগ্রহণ ও গাছ কাটার মতো আইনি জট দ্রুত কাটিয়ে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
“দিল্লির লাইফলাইন মেট্রো এবং সড়ক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করাই আমাদের অগ্রাধিকার। সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ হলে দূষণ এবং যানজট— দুই থেকেই মুক্তি পাবেন দিল্লিবাসী।” — রেখা গুপ্তা, মুখ্যমন্ত্রী।





