মৃত্যুর মুখেই দেশে ফিরছেন হাসিনা? ডিসেম্বরে বড় পদক্ষেপে তোলপাড় রাজনীতি!

ডিসেম্বর মাসেই স্বদেশে ফেরার কথা ঘোষণা করে ফেলেছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এই ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তাঁর পুত্র তথা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে এবং সেখানে গণতান্ত্রিক অবক্ষয় ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন যে দেশের এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট দীর্ঘমেয়াদে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখতে গিয়ে সজীব ওয়াজেদ দাবি করেন যে, বিগত সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশে মানবাধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, দেশের বড় সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলির ওপর প্রকাশ্যেই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে যাতে কোনো সত্য তথ্য বা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন প্রচার করা না হয়। ভারতের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের পূর্ব সীমান্তে কার্যত ‘আরেকটি পাকিস্তান’-এর জন্ম দিয়েছে, যা দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তাঁর মতে, কারাবন্দি বহু দাগী জঙ্গির মুক্তি এবং বিভিন্ন উগ্রপন্থী সংগঠনের প্রকাশ্য কার্যকলাপ দেশকে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের নতুন উৎস করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, একই অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের আন্দোলন এবং নিজের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে যতই আইনি জটিলতা বা প্রাণনাশের হুমকি থাকুক না কেন, তিনি সমস্ত ভয়কে জয় করে আগামী ডিসেম্বর মাসেই নিজের দেশের মাটিতে ফিরে যাবেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তি ফিরিয়ে আনা। সব মিলিয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট প্রত্যাবর্তন বার্তা এবং জয়ের বিস্ফোরক মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।