মৃত্যুর মিছিল তারাতলায়! ‘সিটি অফ জয়’কে মৃত্যুকূপ বানানোর অভিযোগ তুলে বিস্ফোরক শুভেন্দু

গত বুধবার দুপুরে কলকাতা শহরের তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে সরকারিভাবে ইতিমধ্যেই ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া কমপক্ষে ২০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা নিয়ে বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গতকাল দুপুর ১২:০৭ মিনিটে কেএমসি (KMC) এলাকার তারাতলায় একটি নির্মীয়মাণ গুদামঘর ভেঙে পড়ে। এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি ঘটনা। আমি মৃতদের আত্মার শান্তি কামনা করি এবং তাঁদের পরিবারের পাশে আছি। এসএসকেএম হাসপাতালে যে সমস্ত আহত ব্যক্তি ভর্তি আছেন, তাঁদের চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার সবরকমভাবে সাহায্যের আশ্বাস দিচ্ছে।”
তবে এই বিপর্যয় নিয়ে বিধানসভায় রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, এই দুর্ঘটনা নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং দুর্নীতির ফল। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, “এটি আপনাদের অপকর্মের ফল। সব জায়গা থেকে কাটমানি ও টাকা নিতে নিতে আপনারা এই ‘সিটি অফ জয়’কে মৃত্যুকূপে পরিণত করেছেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই গুদাম নির্মাণের নথিতে প্রাক্তন মেয়রের সই রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, এই ঘটনায় দোষী কাউকেই ছাড়া হবে না। ঘটনায় যুক্ত ইঞ্জিনিয়ারদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। প্রসঙ্গত, এর আগে গার্ডেনরিচ এলাকায় বিল্ডিং ভেঙে পড়ার ঘটনায় মুর্শিদাবাদের বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেও এদিন সরব হন শুভেন্দু।
তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। তিনি বলেন, “আশগার এবং কালি’র মতো মূল অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে। আমি চাই উদ্ধারকারী দল যেন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারে। ক্যামাক স্ট্রিটে ২০০ কোটি টাকা জমা দেওয়ার বিষয়টিতেও আমরা ওয়াকিবহাল। কাউকে রেয়াত করা হবে না।”
বর্তমানে এনডিআরএফ, পুলিশ ও দমকল বাহিনী যৌথভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। শহরজুড়ে এই ঘটনায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও তীব্র হচ্ছে। নির্মাণকাজে নিয়মভঙ্গ এবং দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে প্রশাসন এখন উচ্চপর্যায়ের তদন্তের পথে এগোচ্ছে।