ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা! ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজারো মানুষ, ট্রাম্প ও মোদির বার্তায় সাহায্যের আশ্বাস

ভেনেজুয়েলা এখন ধ্বংসস্তূপের নামান্তর। গত ১০০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সাক্ষী থাকল এই ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং তার পরবর্তী ২০টি আফটারশকের দাপটে কার্যত লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৩২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হলেও, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা যে ভয়াবহ সতর্কবার্তা দিয়েছে, তা শিউরে ওঠার মতো। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে প্রাণহানির সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

মুহূর্তের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে কয়েকশো বহুতল ভবন। ধুলোয় মিশে গেছে জনপদ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালানো সত্ত্বেও ধ্বংসস্তূপের গভীর থেকে মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে। শহরের প্রধান বিমানবন্দরটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাইরের দেশ থেকে জরুরি ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, আহত হয়েছেন অন্তত ৭০০ জন, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা যে বহুগুণ বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

বিপর্যয়ের এই চরম মুহূর্তে ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখেন, “ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি বড় ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে। প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির যে খবর আসছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। যুক্তরাষ্ট্র সবরকম সহায়তা দিতে প্রস্তুত, আগ্রহী এবং সক্ষম।” ট্রাম্প ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও ভেনেজুয়েলার এই বিপর্যয়ে গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ভারতের পক্ষ থেকে সব ধরণের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।

এই মুহূর্তে পুরো দেশটি অন্ধকারে ডুবে আছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়হীন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকারীদের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জামের অভাব এবং যাতায়াতের রাস্তাগুলোর বেহাল দশা। ধ্বংসস্তূপের স্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে এখন প্রতিটা সেকেন্ড মূল্যবান। ভেনেজুয়েলার এই মানবিক সংকটের সময়ে গোটা বিশ্ব এখন আশায় বুক বেঁধেছে যে, উদ্ধারকাজে কোনো অলৌকিক পরিবর্তন ঘটবে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।