নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ এক তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রথম বড় পদক্ষেপ নিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। যুবরাজ মেহতা নামে ওই যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ‘উইশটাউন প্ল্যানার্স প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক নির্মাণ সংস্থার মালিক অভয় কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আর এক অংশীদার মণীশ কুমারের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।
ঘটনাটি গত শনিবার গভীর রাতের। অফিস থেকে ফেরার পথে যুবরাজের গাড়িটি একটি নির্মীয়মাণ মলের জন্য খোঁড়া ২০ ফুট গভীর বিশাল এক গর্তে পড়ে যায়। জানা গেছে, গাড়িটি জলে ডুবে যাওয়ার পর প্রায় দেড় ঘণ্টা বাঁচার জন্য লড়াই করেছিলেন যুবরাজ। গাড়ির ভেতর থেকেই তিনি তাঁর বাবা ও বন্ধুদের ফোন করে বারবার সাহায্যের জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন। কিন্তু মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ওই গর্ত থেকে সময়মতো তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২০২১ সাল থেকে ওই জায়গায় বেসমেন্ট তৈরির জন্য গর্ত খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছিল, যা কালক্রমে একটি ডোবার আকার নেয়।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যাওয়ার পর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। গাফিলতির দায়ে সোমবারই নয়ডা অথোরিটির সিইও, আইএএস অফিসার লোকেশ এম-কে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃত যুবকের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ‘লোটাস গ্রিনস’ ও ‘উইশটাউন প্ল্যানার্স’-এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। যদিও লোটাস গ্রিনসের দাবি, তারা আগেই এই প্রকল্প অন্য সংস্থাকে বিক্রি করে দিয়েছিল। ৫ বছর ধরে একটি জনবহুল এলাকায় কেন সুরক্ষা ছাড়াই এমন মরণফাঁদ ফেলে রাখা হল, এখন সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।