মৃত্যুমিছিল ওদলাবাড়িতে! সেতুতে ভুল পথে আসা গাড়ির ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেল অ্যাম্বুলেন্স, রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের বর্ণনা

শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি করিডোরের ওদলাবাড়ি যেন এখন মৃত্যুফাঁদ। কিছুদিন আগেই চেল নদীর সেতুর ওপর ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দু’জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই, মঙ্গলবার সকালে ওদলাবাড়ি সেতুর ওপর ঘটল আরও এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা। একটি দ্রুতগামী গাড়ির সঙ্গে সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে পাঁচজন গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সিসিইউ (CCU)-তে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ মিনগ্লাস চা-বাগান থেকে এক রোগীকে নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের দিকে যাচ্ছিল একটি অ্যাম্বুলেন্স। গাড়িতে চালক রামচন্দ্র গোদবা ছাড়াও নন্দন সোনার নামে এক ব্যক্তি ছিলেন। ওদলাবাড়ি সেতুর ওপর সেই সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি গাড়ি ভুল লেন দিয়ে উঠে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সটিকে সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, বিকট আওয়াজ শুনে আশেপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
দুর্ঘটনার কবলে পড়া গাড়িটিতে শিলিগুড়ির বাবুপাড়া এলাকার বাসিন্দা রানা দে সরকার তাঁর পুত্র রাজদীপ ও বন্ধু অমল নন্দীকে নিয়ে বিন্নাগুড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ি দুটির তীব্র গতির কারণেই সংঘর্ষের অভিঘাত ছিল প্রচণ্ড। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের তৎপরতায় আহতদের দ্রুত মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অ্যাম্বুলেন্সের চালক রামচন্দ্র গোদবা অভিযোগ করেন, বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়িটি ভুল পথে ফ্লাইওভারে ওঠানোর কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগী ও তাঁর আত্মীয়দের অবস্থা তুলনামূলক স্থিতিশীল হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওদলাবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
একই এলাকায় বারবার দুর্ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত এই সেতুর ওপর ট্রাফিক আইন অমান্য করা এবং দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর ফলে প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর নজরদারি ও গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থায়ী ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মালবাজার থানার পুলিশ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি দুটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মালবাজারের এসডিপিও সুদীপ্ত সরকার জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।