মৃত্যুফাঁদে ২৩,০০০ ভারতীয় নাবিক! দাউদাউ জ্বলছে জাহাজ, মোদী সরকারের কাছে চরম আর্জি!

সাত দিন পেরিয়ে গেলেও থামার নাম নেই ইরান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিধ্বংসী যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধের আগুনের লেলিহান শিখা এবার গ্রাস করতে চলেছে হাজার হাজার ভারতীয় প্রাণকে। গোয়েন্দা ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে বর্তমানে প্রায় ২৩,০০০ ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। তাঁদের জীবন এখন সুতোর ওপর ঝুলছে।

মাঝসমুদ্রে প্রাণ হাতে ভারতীয় নাবিকরা

নাবিকদের সংগঠনের প্রতিনিধি শ্যাম জগন্নাথ সম্প্রতি মুম্বইয়ের ডিরেক্টর অব শিপিংয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের পর থেকে অন্তত ৯টি জাহাজে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে, যেগুলোতে ভারতীয় কর্মীরা কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী, পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে ‘হাই রিস্ক জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

৫ মার্চের সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ

আতঙ্ক কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ৫ মার্চের ঘটনা। বাহামসের পতাকা পরিহিত ‘সোনাগল নামিবি’ নামক একটি জাহাজ ইরাকের খোল আল জুবের বন্দরের কাছে নোঙর করা ছিল। হঠাতই একটি বিশাল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে জাহাজের ডেক। যদিও অলৌকিকভাবে কোনো নাবিকের মৃত্যু হয়নি এবং জাহাজের বড় ক্ষতি এড়ানো গেছে, কিন্তু এই ঘটনা ভারতীয় নাবিকদের মনে ত্রাসের সৃষ্টি করেছে।

সংগঠনের দাবি: বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিপজ্জনক জলসীমায় ভারতের ৩৬টি জাহাজ অবস্থান করছে। এই জাহাজগুলোকে সুরক্ষিত করতে এবং নাবিকদের দেশে ফেরাতে ভারতীয় নৌবাহিনীকে (Indian Navy) সরাসরি হস্তক্ষেপে নামার দাবি জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণের দাবি

পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, নাবিকদের সংগঠন সরকারের কাছে বিশেষ বিমার দাবি তুলেছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:

  • কোনো ভারতীয় নাবিক এই যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারালে তাঁর পরিবারকে যেন ৪৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।

  • আটকে পড়া নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার জন্য অবিলম্বে বিশেষ ‘করিডোর’ তৈরি করতে হবে।

যুদ্ধ থামার লক্ষণ নেই

আজ যুদ্ধের সপ্তম দিন। আন্তর্জাতিক সমর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত সহসা থামার নয়, বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় থাকা নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy