শুক্রবার গভীর রাতে একরাশ আতঙ্ক আর স্বস্তির সংমিশ্রণ নিয়ে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করল মাহান এয়ারের বিশেষ বিমান। ইরান থেকে প্রথম দফায় উদ্ধার করে আনা হল কয়েকশো ভারতীয়কে, যাদের মধ্যে সিংহভাগই পড়ুয়া। ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে ইরান এখন কার্যত রণক্ষেত্র। অগ্নিগর্ভ সেই পরিস্থিতি থেকে প্রিয়জনদের অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসতে দেখে বিমানবন্দরে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিজনরা।
ইরানের মূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরকার বিরোধী বিদ্রোহে রূপ নিয়েছে। ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে ইরানি পুলিশের গুলিতে ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে বিদেশ মন্ত্রক তড়িঘড়ি অ্যাডভাইজারি জারি করে ভারতীয়দের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। তেহরান থেকে ফেরা জম্মু-কাশ্মীরের প্রায় ৬০ জন পড়ুয়া জানান, সেখানে জীবন বিপন্ন ছিল। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
ভারতের মাটিতে পা রেখেই যাত্রীরা কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। এক ছাত্রীর কথায়, “বাইরে বেরোলেই বিক্ষোভকারীরা গাড়ি ঘিরে ধরছিল। সরকার পাশে না দাঁড়ালে ফেরা সম্ভব ছিল না।” বিমানবন্দরেই ‘মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়’ স্লোগান তোলেন উদ্ধার হওয়া ভারতীয়রা। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে পারে। সেখানে এখনও প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় আটকে রয়েছেন, যাদের ধাপে ধাপে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেন্দ্র।





