মুহূর্তে রঙ বদলানো বিরল প্রাণী ‘ক্যামেলিয়ন’ উদ্ধার চন্দ্রকোনায়! কেন এরা বিলুপ্তির পথে?

প্রকৃতির অন্যতম রঙিন বিস্ময়, গিরগিটি প্রজাতির অপূর্ব সুন্দর প্রাণী ‘ক্যামেলিয়ন’ (Chameleon) বা রং-বদলানো গিরগিটি। সম্প্রতি, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার ঝাঁকরা এলাকা থেকে বিলুপ্তির পথে থাকা এই প্রাণীটিকে উদ্ধার করলেন ওয়াইল্ড লাইফ রিকভারি টিমের সদস্য মলয় ঘোষ।
একসময় পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্তে সহজেই দেখা যেত এই ক্যামেলিয়নদের। কিন্তু পরিবেশ ধ্বংস, অবাধে বনভূমি উজাড় এবং পোষ্য হিসেবে অবৈধ বেচাকেনার কারণে বর্তমানে এদের অস্তিত্ব চরম সংকটে। দীর্ঘদিন পর এই বিরল প্রাণীর দেখা মেলায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
👉 কীভাবে উদ্ধার হলো ক্যামেলিয়নটি? ঝাঁকরা এলাকার এক বাসিন্দা প্রথমে প্রাণীটিকে দেখতে পান। খবরটি বন দফতর ও ওয়াইল্ড লাইফ রিকভারি টিমকে জানানো হলে টিমের সদস্য মলয় ঘোষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, “স্থানীয়রা খবর দেওয়ার পরই আমরা গাছের ডালে লুকিয়ে থাকা প্রাণীটিকে খুব সাবধানে উদ্ধার করেছি। বর্তমানে এটি বন দফতরের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।”
👉 কেন এরা প্রকৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ? মলয় ঘোষ এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ক্যামেলিয়নরা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এরা কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে এবং বনের প্রাকৃতিক খাদ্যচক্র বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু মানুষের অবিবেচনাপ্রসূত কার্যকলাপ এদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ক্যামেলিয়ন শান্ত প্রকৃতির প্রাণী, এদের রঙ বদলানোর ক্ষমতা মূলত পরিবেশের সঙ্গে মিশে যাওয়া এবং আত্মরক্ষার কৌশল—কেবলমাত্র সৌন্দর্যের জন্য নয়।
👉 বন দফতরের কঠোর সতর্কতা: স্থানীয় বন দফতর জানিয়েছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, কোনও ধরনের বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে ধরে রাখা বা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এর শাস্তি হিসেবে জেল ও জরিমানা উভয়ই হতে পারে। এই ধরনের বিরল প্রাণী দেখা গেলে কেউ যেন তা ধরতে বা ক্ষতি করতে না যায়, বরং অবিলম্বে বন দফতর বা ওয়াইল্ড লাইফ রিকভারি টিমকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চন্দ্রকোনায় এই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর পুনরাবির্ভাব একদিকে যেমন আশার আলো জাগিয়েছে, তেমনই স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তাকেও সামনে এনেছে।