মুর্শিদাবাদে ‘বাবরি মসজিদ’-এর শিলান্যাসের ঘোষণা তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীরকে শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা

মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙ্গায় আগামী ৬ ডিসেম্বর ‘বাবরি মসজিদ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর (শিলান্যাস) স্থাপনের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীরের ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তিতে এই ঘোষণাটি যথেষ্ট চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া:
এই বিতর্কিত ঘোষণার প্রেক্ষিতে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীরকে সরাসরি আক্রমণ করে মন্তব্য করেন:
“আগে নিজে ঠিক করুন আপনি মমতার বিরুদ্ধে না মমতার পক্ষে?”
শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি হুমায়ূন কবীরের ঘোষণার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং তৃণমূল বিধায়কের সাম্প্রতিক দলীয় অবস্থানকেও ইঙ্গিত করেছেন।
রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক:
হুমায়ূন কবীরের দাবি: তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর জানিয়েছেন যে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করছেন না। তিনি একই সাথে দাবি করেছেন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
কংগ্রেসের অবস্থান: কংগ্রেস সাংসদ সুরেন্দ্র রাজপুত এই প্রসঙ্গে বলেছেন, যদি কেউ মসজিদ, মন্দির, গুরুদুয়ারা এবং গির্জা তৈরি করেন, তাহলে এতে বিতর্কের কী আছে? প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব উপাসনালয় তৈরি করার অধিকার রয়েছে।
পর্যবেক্ষণ: অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন যে এই ঘোষণাটি ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলায় সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা।
৬ ডিসেম্বরের এই প্রস্তাবিত শিলান্যাস অনুষ্ঠান ঘিরে মুর্শিদাবাদ এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই সকলের নজর।