মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় পর পর দু’দিন ধরে চলা নজিরবিহীন অশান্তি ও হিংসার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে কড়া চিঠি লিখলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, মালদার জনসভা থেকে এই ইস্যুতে সরব হয়ে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শুভেন্দুর চিঠিতে বিস্ফোরক অভিযোগ: রাজ্যপালকে পাঠানো চিঠিতে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেছেন, বেলডাঙার এই অশান্তি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। নাগরিকত্ব আইন বা ওয়াকফ সংশোধনী আইনের সময় মুর্শিদাবাদে যে ছকে অশান্তি ছড়ানো হয়েছিল, এবারও সেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। শুভেন্দুর প্রশ্ন, ধুলিয়ান ও সামশেরগঞ্জে যখন হাইকোর্টের নির্দেশে ১৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, তখন কেন তাদের ব্যবহার করা হলো না? রাজ্য পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে দুষ্কৃতীদের সুযোগ করে দিয়েছে বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন তিনি।
অশান্তির নেপথ্যে কী? ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। শনিবার ওই শ্রমিকের মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই সুজাপুর-কুমারপুর অঞ্চলে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো শুরু হয়। দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। এর মধ্যেই আর এক শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ উঠলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। উন্মত্ত ভিড়ের হামলায় জখম হন একাধিক সাংবাদিকও।
মোদীর আক্রমণ ও পুলিশের দাবি: শনিবার মালদার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “বাংলায় মা-বোনেদের নিরাপত্তা নেই। বেলডাঙায় মহিলা সাংবাদিকদের ওপর তৃণমূলের গুণ্ডারা হামলা চালিয়েছে।” রাজ্যের অপরাধের গ্রাফ নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন তিনি। যদিও মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার দাবি করেছেন, মাত্র আধঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় ৪ জন সহ মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে বাকিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।





