মুজফফরনগরে এসটিএফের এনকাউন্টারে মুখতার গ্যাংয়ের দুই সদস্যের মৃত্যু, বড় সাফল্য পুলিশের

উত্তরপ্রদেশে মাফিয়াতন্ত্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার যখন তৎপর, তখন প্রতিনিয়ত চলছে পুলিশি অভিযান। এই আবহে বড়সড় সাফল্য পেল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। মুজফফরনগর জেলায় স্টেট টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর এনকাউন্টারে কুখ্যাত মুখতার গ্যাংয়ের দুই সদস্য নিহত হয়েছে। মৃতরা হলেন সঞ্জীব জিভা এবং মুখতার গ্যাংয়ের কুখ্যাত শার্প শুটার শাহরুখ পাঠান। তাদের প্রত্যেকের মাথার দাম ছিল ৫০ হাজার টাকা। দুটি দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার গভীর রাতে (১৪ জুলাই, ২০২৫) গোপন খবরের ভিত্তিতে মিরাট পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স অভিযান চালায়। ছাপরা থানা এলাকার বিজোপুরা ক্রসিংয়ের কাছে শাহরুখ পাঠানের গাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আততায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে অন্তত ১০ রাউন্ড গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়, যার জেরে জিভা ও শাহরুখের মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, মৃতদের মধ্যে জিভা ওই অঞ্চলের একজন কুখ্যাত গ্যাংস্টার এবং শাহরুখ মুখতার গ্যাংয়ের শার্প শুটার হিসেবে কাজ করত। ঘটনাস্থল থেকে ৩টি পিস্তল, ৬০টি কার্তুজ ও ব্যবহৃত গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এনকাউন্টারে নিহত এই দুই অপরাধীর বিরুদ্ধে ১২টিরও বেশি গুরুতর মামলা বিচারাধীন ছিল। অতীতে ডাকাতি এবং পুলিশ হেফাজতে খুনের মতো অভিযোগও ছিল এদের বিরুদ্ধে। এই দুই কুখ্যাত অপরাধীর মৃত্যু পুলিশের কাছে এক বড় সাফল্য হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
২০১৫ সালে মুজফফরনগর রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ হেফাজতে আসিফ জাইদা নামে এক ব্যক্তিকে খুন করে শাহরুখ পাঠান। এই ঘটনার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। জেলে থাকাকালীন সে সঞ্জীব জিভা এবং তৎকালীন গ্যাংস্টার ও রাজনীতিবিদ মুখতার আনসারির সংস্পর্শে আসে। এরপর সে সঞ্জীব জিভার হয়ে কাজ শুরু করে। কিছু দিন জেলে থাকার পর ২০১৬ সালে সে সিভিল লাইন মুজফফরনগর থেকে পালিয়ে যায়। পালানোর পর জিভার নির্দেশে, সে ২০১৭ সালে হরিদ্বারে কম্বল ব্যবসায়ী গোল্ডিকে খুন করে। একই বছরে সে মুজাফফরনগরে আসিফ জাইদা হত্যা মামলার সাক্ষীকেও খুন করে। এই হত্যার পর তার মাথার দাম ৫০,০০০ টাকা ঘোষণা করে পুলিশ।
এরপর শাহরুখকে আবারও গ্রেফতার করা হয় এবং গোল্ডি হত্যা মামলায় সঞ্জীব জিভার সঙ্গে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে সে জামিনে ছিল।
প্রসঙ্গত, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে গ্যাংস্টার মুখতার আনসারি ছিলেন এক বিতর্কিত মুখ। তিনি উত্তরপ্রদেশের মউ সদর বিধানসভা কেন্দ্রের পাঁচ বারের বিধায়ক ছিলেন। ২০০৫ সালের নভেম্বর মাসে গাজিপুরের বিধায়ক কৃষ্ণানন্দ রাই-সহ ৭ জনকে খুনের অভিযোগ ওঠে মুখতারের বিরুদ্ধে। সেই মামলায় তাঁর ১০ বছরের কারাবাস হয়। পাশাপাশি অস্ত্রের ভুয়ো শংসাপত্র মামলায় এই মাফিয়া রাজনীতিকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডেরও সাজা শোনায় আদালত। তার বিরুদ্ধে অন্তত ৬০টি মামলা চলছিল। এই মামলা চলাকালীনই চলতি বছরের মার্চ মাসে জেলে মৃত্যু হয় মুখতারের।
যোগী সরকারের মাফিয়া নির্মূল অভিযানের মধ্যেই এই এনকাউন্টারের ঘটনা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর মনোভাবেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।