ঘরে বসেই খুলুন জনধন অ্যাকাউন্ট থেকে কেওয়াইসি আপডেট! রাজ্যে শুরু হল মেগা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ক্যাম্পেন

যাঁদের এখনও কোনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই কিংবা বিমা বা পেনশনের মতো সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় নাম ওঠেনি, তাঁদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। আর্থিক পরিষেবার বাইরে থাকা রাজ্যের যোগ্য পরিবারগুলিকে সরাসরি ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মূলস্রোতে নিয়ে আসতে এবার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি জেলায় বিশেষ শিবির বসল। স্টেট লেভেল ব্যাঙ্কার্স কমিটি (SLBC), জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কবে থেকে কবে পর্যন্ত চলবে এই শিবির?
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ‘ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন স্যাচুরেশন ক্যাম্পেন’ ইতিমধ্যেই গত ২১ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে গেছে। এই বিশেষ ক্যাম্প চলবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে হাতে প্রায় আড়াই মাস সময় রয়েছে। প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার মানুষদের চিহ্নিত করে তাঁদের দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এক ছাদের তলায় কী কী পরিষেবা মিলবে?
১. জনধন অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ: যাঁদের একটিও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নেই, তাঁরা এই শিবির থেকেই প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনার (PMJDY) অধীনে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।
২. বিমা ও পেনশন প্রকল্প: প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বিমা যোজনা (PMJJBY), প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বিমা যোজনা (PMSBY) এবং অটল পেনশন যোজনায় (APY) নতুন নাম নথিভুক্ত করার সুব্যবস্থা রয়েছে।
৩. পুরনো অ্যাকাউন্টের সমস্যা সমাধান: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিঙ্ক, রি-কেওয়াইসি (Re-KYC), সি-কেওয়াইসি তৈরি, দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় বা ডেড অ্যাকাউন্ট সচল করা এবং নমিনির তথ্য আপডেট করার মতো কাজগুলি একই ছাদের তলায় মিটিয়ে নেওয়া যাবে।
৪. কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা: যোগ্য প্রধানমন্ত্রী-কিষাণ উপভোক্তাদের জন্য কিষান ক্রেডিট কার্ডের (KCC) আবেদন গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনায় (PMFBY) নাম নথিভুক্ত করার পাশাপাশি ‘আপকি পুঁজি, আপকা অধিকার’ কর্মসূচির প্রচারও চালানো হবে।
৫. সাইবার প্রতারণা থেকে সতর্কবার্তা: বর্তমান ডিজিটাল লেনদেনের যুগে প্রতারণার ঝুঁকি এড়াতে শিবিরগুলিতে নিরাপদ অনলাইন লেনদেন এবং জালিয়াতি থেকে বাঁচার কৌশলও শিখিয়ে দেওয়া হবে।
৬. আদিবাসী পরিবারগুলিতে বিশেষ জোর: বিশেষভাবে দুর্বল আদিবাসী গোষ্ঠীর পরিবারগুলির জন্য জনধন অ্যাকাউন্ট খোলার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে তথ্যের অভাবে বা পরিষেবার নাগালের বাইরে থাকার কারণে কোনো যোগ্য পরিবার সরকারি সাহায্য থেকে বঞ্চিত না হয়।