হুড়মুড়িয়ে সস্তা হলো সোনা ও রুপো! ১০ দিনে ১৫ হাজার টাকা কমল রুপোর দাম, সোনা কেনার এটাই কি সেরা সুযোগ?

অপরিশোধিত তেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার জেরে অবশেষে দেশের বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটল সোনা ও রুপোর দামে। মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই হুড়মুড়িয়ে কমছে দুই মূল্যবান ধাতুর দর। গত তিন দিনেই সোনার দামে বড় ধাক্কা লেগেছে, আর রুপোর দাম কমেছে এক ধাক্কায় দশ হাজার টাকারও বেশি।

টানা তিন দিনে কতটা কমল সোনার দাম?

টানা তিন দিন পতনের জেরে ২৪-ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ৩,৬১০ টাকা এবং ২২-ক্যারেট সোনার দাম ৩,৩০১ টাকা কমেছে। এমনকি শনিবারেও উভয় শ্রেণির সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১০ টাকা করে হ্রাস পায়। সবথেকে বিশুদ্ধ ধাতু হিসেবে ২৪-ক্যারেট সোনা এবং গয়না তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত ২২-ক্যারেট সোনার এই লাগাতার পতন মধ্যবিত্ত ও ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। যাঁরা সোনা কেনার জন্য সঠিক সময়ের অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এই দরপতনের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর।

রুপোর বাজারে রেকর্ড পতন:

সোনার পাশাপাশি দর পতনের তালিকায় বড় নাম রুপোও। টানা ছয় দিন বাজার স্থিতিশীল থাকার পর গত তিন দিন ধরে লাগাতার কমেছে রুপোর দাম। এই তিন দিনে প্রতি কেজি রুপোর দর কমেছে ১০,১০০ টাকা। এর আগে গত ১৫ অক্টোবর এক ধাক্কায় ৫,০০০ টাকা সস্তা হয়েছিল রুপো। সবমিলিয়ে গত ১০ দিনে প্রতি কেজি রুপোর দাম কমেছে মোট ১৫,১০০ টাকা।

শনিবারের বাজার দর অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লিতে এক কেজি রুপোর দাম নেমে এসেছে ২,২০,০০০ টাকায়। মুম্বই এবং কলকাতাতেও রুপো একই দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে মেট্রোপলিটন শহরগুলির মধ্যে চেন্নাইতে রুপোর দাম কিছুটা চড়া রয়েছে, যেখানে এক কেজি রুপো বিক্রি হচ্ছে ২,২৪,৯০০ টাকায়।

হঠাৎ কেন কমছে সোনা ও রুপোর দাম?

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য সোনা ও রুপোর ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাধারণত সোনা ও রুপোয় বিনিয়োগ করলে সুদের মতো নির্দিষ্ট কোনো নিয়মিত আয় হয় না। ফলে সুদের হারভিত্তিক অন্যান্য বিকল্প বিনিয়োগগুলো যখন আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, তখন বিনিয়োগকারীরা মূল্যবান ধাতু থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সোনা ও রুপোর দামে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সৌদি আরবের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার আশঙ্কার কারণে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তেলের এই চড়া দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে? বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ:

সোনা ও রুপোর পরবর্তী গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণে আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর নির্ধারিত মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতি বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এই বৈঠক থেকেই সুদের হারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ স্পষ্ট হতে পারে। যদি কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার চড়া রাখার ইঙ্গিত দেয়, তবে সোনা ও রুপোর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। উলটো দিকে, সুদের হার হ্রাসের কোনো ইঙ্গিত মিললে এই ধাতুগুলির দাম ফের চড়তে শুরু করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামার ওপর নির্ভর করবে এই দুই ধাতুর ভবিষ্যৎ। তাই কেবলমাত্র সাম্প্রতিক দরপতনের ওপর চোখ রেখে হঠাত করে কোনো বড় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত না নিয়ে, বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি ও নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।