ওলটপালট হতে পারে জনজীবন! তাইওয়ানের দিকে হাত বাড়াচ্ছে ভয়ঙ্কর টাইফুন, বাতিল শত শত বিমান

বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিধ্বংসী ঝড়ের কবলে পড়তে চলেছে তাইওয়ান। শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’র (Typhoon Champi) প্রভাবে দ্বীপরাষ্ট্রে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঝড়ের সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক প্রভাব যথাসম্ভব রুখে দিতে এবং জনজীবন সুরক্ষিত রাখতে তাইওয়ান সরকার যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই দ্বীপটির বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে।
বন্ধ স্কুল-দফতর ও বাতিল বিমান
আসন্ন বড় দুর্যোগের আশঙ্কায় তাইওয়ানের বড় বড় শহরগুলিতে স্কুল, কলেজ, সরকারি দফতর এবং বাজারহাট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত করে দিয়ে শত শত বিমান বাতিল করা হয়েছে। তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (CWA) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই টাইফুনের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। বর্তমানে ঝড়টি তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থান করছে। যদিও ঝড়টির সরাসরি তাইওয়ানের স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা কিছুটা কম, তবুও আগামী দু’দিন এর তীব্র প্রভাব বজায় থাকবে বলে সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রশাসন।
এল নিনোর প্রভাবে একের পর এক সাইক্লোন
বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের অন্যতম মূল কারণ হলো এল নিনোর (El Nino) প্রভাব। ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আবহাওয়ার সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। এর ফলেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র বৃষ্টিপাত, অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং ঘনঘন ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যার জেরে কোথাও তা পরিচিত সাইক্লোন, কোথাও আবার টাইফুন বা হারিকেন নামে তাণ্ডব চালাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।