“মুখ খুললে গাজা-পকসো কেসে ফাঁসাতো!” মেসি কাণ্ডে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক শতদ্রু

গত ডিসেম্বরে যুবভারতীতে লিওনেল মেসির সফর ঘিরে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার প্রায় ৬ মাস পর নীরবতা ভাঙলেন ইভেন্ট উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত। এতকাল যাকে এই ঘটনার ‘বলির পাঁঠা’ বা ‘খলনায়ক’ হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেই শতদ্রুই এবার সরাসরি তৎকালীন প্রশাসন, পুলিশ এবং প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে বিস্ফোরক দাবি করলেন।

“কুমিরকে আগে ডাঙায় আনতে হয়”

এতদিন কেন মুখ খোলেননি? এই প্রশ্নের উত্তরে শতদ্রু বলেন, “তখন আমি জলের মধ্যে ছিলাম। জলে নেমে কুমিরের সঙ্গে লড়া যায় না। আগে কুমিরকে ডাঙায় আনতে হয়! তখন মুখ খুললে আমার পরিবারের ক্ষতি হতে পারত। আমাকে গাঁজা, নারকোটিকস বা পকসোর মতো মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হতো।” রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি জানান, এখন পরিবেশ বদলেছে বলেই তিনি সত্যিটা সামনে আনার সাহস পাচ্ছেন।

নিরাপত্তা নয়, ছিল ‘রাজনৈতিক দাদাগিরি’

শতদ্রুর দাবি, মেসির সফর ছিল ‘জেড প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয়ে ঘেরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শাহরুখ খানের মতো ব্যক্তিত্বদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস মাঠে ঢোকার পরেই সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। শতদ্রু বলেন, “অরূপ বিশ্বাস একা ঢোকেননি, সঙ্গে অগণিত অনুগামী, ইউটিউবার আর মিডিয়ার লোক নিয়ে ঢুকে পুরো ইভেন্ট হাইজ্যাক করেছিলেন। পুলিশ কমিশনার বারণ করলেও তিনি শোনেননি। মেসিকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলতেই সবাই ব্যস্ত ছিলেন।”

পুলিশের ভূমিকা ও গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন

শতদ্রু ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “মাঠে হাজার খানেক পুলিশ ছিল। তারা চাইলেই বিশৃঙ্খলা রুখতে পারত, কিন্তু করেনি। উল্টে তদন্তের নামে আমাকে আর আমার টিমকে হেনস্থা করা হয়েছে। এসআইটি (SIT) কেন অরূপ বিশ্বাসকে ডাকল না? ভিডিওতে তো পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে কারা নিয়ম ভেঙে মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল।” মাঠে কাঁচের বোতল ঢোকা নিয়ে তাঁর সাফ কথা, পুলিশি তল্লাশি ছাড়া কিছুই ঢোকা সম্ভব নয়। যদি বোতল ঢোকে, তবে তো আরডিএক্স-ও ঢুকতে পারত!

“নিজের রাজ্যে আমি ভিলেন কেন?”

আক্ষেপের সুরে শতদ্রু জানান, মেসির এই সফর দিল্লি, মুম্বই এবং তেলঙ্গানায় দারুণ সফল হয়েছিল। সেখানে তিনি সম্মান পেলেও কলকাতায় তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। তাঁর দাবি, ২০ শতাংশ টিকিট বিনামূল্যে দেওয়ার রাজনৈতিক চাপ তিনি মানেননি বলেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল।

তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি

নতুন সরকারের কাছে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন শতদ্রু। তিনি বলেন, “আমি ব্যবসায়ী, ক্রিমিনাল নই। দোষ প্রমাণ হলে আমার শাস্তি হোক, কিন্তু প্রভাবশালীরা কেন ছাড় পাবে? আমি আদালতের দ্বারস্থ হব এবং সম্মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণ চাইব।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy