মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে খুন করতে বিস্ফোরক ছক! বর্ধমান থেকে ধৃত জইশ জঙ্গি হামিদ

রাজ্য রাজনীতিতে এক চরম চাঞ্চল্যকর ও ভীতিপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত্যার সুপরিকল্পিত ছক কষার অভিযোগে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে গ্রেফতার হয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের এক বিপজ্জনক জঙ্গি, হামিদ মন্ডল। সূত্রের খবর, সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এই জঙ্গি গত বেশ কয়েক বছর ধরেই সুকৌশলে বাংলায় ঘাঁটি গেড়ে বসবাস করছিল।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হামিদের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি, দৈনন্দিন সূচি এবং ভিআইপি মুভমেন্ট সংক্রান্ত সমস্ত অত্যন্ত গোপনীয় নথি উদ্ধার করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষস্তরের এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধারের পরই তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তবে কি জইশ গোষ্ঠীর এই জঙ্গি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে টার্গেট করে কোনো বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করেছিল? এছাড়া আরও কিছু অত্যন্ত বিস্ফোরক তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এলেও নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তে তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ অফিসাররা।
ধৃত জঙ্গির কাছে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির বিশদ তথ্য, কোন গাড়িতে তিনি যাতায়াত করবেন, কখন তিনি গাড়িতে উঠবেন, গাড়ি কতদূর যাবে, চালক কে এবং কোথায় গাড়ি পার্কিং করা হবে—এই জাতীয় সমস্ত স্পর্শকাতর ও গোপন তথ্য মজুত ছিল। এই আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেল বা সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ থাকার কারণে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, হাওড়ার পিলখানার বাসিন্দা হামিদ স্থানীয় একটি গেঞ্জির কারখানায় কাজ করার আড়ালে এই নাশকতার জাল বিস্তার করছিল। মাত্র দুই মাস আগে সে বর্ধমানে আস্তানা গাড়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সে পাকিস্তান থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর হ্যান্ডলার হিসেবে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল। পাক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও জানা গেছে।
এই চাঞ্চল্যকর গ্রেপ্তারির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন এনএসজি কম্যান্ডার দীপাঞ্জন চক্রবর্তী বলেছেন, “রাজ্যে সরকার বদলের পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই পুলিশের মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। জম্মু-কাশ্মীরে যেভাবে জঙ্গিদের ওভারগ্রাউন্ড সাপোর্ট বা ওজিডব্লিউ (OGW) নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে, আমাদের রাজ্যেও ঠিক সেই মডেলেই এই দেশবিরোধীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে।” এই মুহূর্তে ঘটনার তদন্তে নেমেছেন রাজ্য পুলিশের এসটিএফ ও বর্ধমান জেলা পুলিশের শীর্ষকর্তারা।