পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অলিন্দে এখন সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সাধারণত রাজ্যের ভিভিআইপি-দের জন্য নির্ধারিত রাজ্য পুলিশের নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বলয় থাকলেও, এবার শুভেন্দুর ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ দেখা যেতে পারে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য প্রয়োজনীয় রাজ্য পুলিশের বিশেষ স্তরের নিরাপত্তার পাশাপাশি শুভেন্দু অধিকারী পেতে পারেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষাকবচও।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি এবং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। এর আগে বিভিন্ন সময়ে তাঁর নিরাপত্তা কমানো বা বাড়ানো নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে দড়ি টানাটানি দেখা গিয়েছে। তবে এবার যে খবরটি সামনে আসছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন এই বাড়তি নিরাপত্তা?
প্রশাসনিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাঁর বর্তমান অবস্থানের গুরুত্ব বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখছে। ইতিপূর্বেই তিনি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা (Z ক্যাটাগরি) ভোগ করতেন, তবে এবার রাজ্য পুলিশের বিশেষ উইং-এর সুরক্ষাও তাঁর জন্য বরাদ্দ হতে পারে। অর্থাৎ, একই সঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্র— দুই স্তরের নিরাপত্তাই তাঁকে ঘিরে থাকবে।
নজিরবিহীন সমীকরণ
বাংলার রাজনীতিতে সাধারণত দেখা যায়, বিরোধী নেতা বা প্রভাবশালী মন্ত্রীরা হয় রাজ্য পুলিশের অধীনে থাকেন, নয়তো কেন্দ্রীয় বাহিনীর। কিন্তু দুই বাহিনীর এমন ‘যুগলবন্দি’ নিরাপত্তা খুব একটা দেখা যায় না। শুভেন্দুর ক্ষেত্রে এই ‘ডাবল প্রোটেকশন’ কি কেবলই সুরক্ষার খাতিরে, নাকি এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর শুভেন্দুর গুরুত্ব যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে তাঁর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা কেন্দ্রের কাছে যেমন অগ্রাধিকারের বিষয়, তেমনই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রটোকল মেনে রাজ্য পুলিশকেও নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে।
আপাতত এই নতুন নিরাপত্তা বলয় কার্যকর হওয়া নিয়ে সরকারি ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল। তবে এই খবর সামনে আসতেই শাসকদলের অন্দরেও শুরু হয়েছে ফিসফাস। রাজ্য ও কেন্দ্র— দুই শক্তির সুরক্ষায় শুভেন্দু এখন কতটা অজেয় হয়ে ওঠেন, সেটাই দেখার।





