‘মুকুলবাবু দলে এলে আমরা অনেক কিছু শিখেছি’, অভিজ্ঞ সহযোদ্ধার প্রয়াণে আবেগপ্রবণ দিলীপ

দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষ। সোমবার ভোরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বাংলার রাজনীতির অন্যতম বর্ণময় চরিত্র এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়। ৭২ বছর বয়সে তাঁর এই প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা রাজনৈতিক মহল। মুকুল রায়ের এই প্রস্থানকে রাজনীতির এক যুগের অবসান হিসেবে দেখছেন তাঁর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
প্রাক্তন রেলমন্ত্রীর প্রয়াণের খবর পাওয়ার পর শোকপ্রকাশ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মুকুল রায় অত্যন্ত অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ছিলেন। বিশেষ করে সংগঠন সাজানোর ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ছিল তুলনাহীন। তিনি যখন ভারতীয় জনতা পার্টিতে এসেছিলেন, তখন তাঁকে পূর্ণ সম্মান দেওয়া হয়েছিল। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি আমাদের সঙ্গেই ছিলেন এবং সেই সময় দলের বিস্তারে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।” দিলীপ আরও জানান যে, গত ২-৩ বছর অসুস্থতার কারণে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারেননি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
প্রসঙ্গত, দিলীপ ঘোষ যখন বিজেপির রাজ্য সভাপতি ছিলেন, তখনই মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময় এই ‘দিলীপ-মুকুল’ জুটিই বঙ্গে পদ্ম শিবিরকে এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিল। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ১৮টি আসন জয়ের নেপথ্যে মুকুল রায়ের ভোট কৌশলের গুরুত্ব স্বীকার করেছেন দিলীপ ঘোষ। আজ সেই সব পুরনো দিনের স্মৃতিই ভিড় করে আসছিল তাঁর মনে। রাজনীতির চড়াই-উতরাই পেরিয়ে মুকুল রায়ের এই চলে যাওয়া বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বড় শূন্যতা তৈরি করল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।