‘মিছিলে ঢুকেছিল BJP-র লোক!’ সাংবাদিক নিগ্রহ নিয়ে বামেদের সাফাই, পাল্টা তোপ শুভেন্দুর

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, এনটিএ (NTA) বাতিল এবং পুলিশি ‘অত্যাচার’-এর প্রতিবাদে শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত বাম ছাত্র সংগঠন ও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মহামিছিল ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে তিলোত্তমা। এই বিক্ষোভ মিছিল চলাকালীনই আক্রান্ত হন বেশ কয়েক জন সাংবাদিক ও চিত্র-সাংবাদিক। মিছিলে বিশৃঙ্খলা এবং সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় বাম নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি এই ইস্যুতে শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক তরজায় পারদ চড়েছে তুঙ্গে।

বামেদের সাফাই ও ছাত্র নেতৃত্বের বক্তব্য:

মিছিলে এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং কেন নিয়ন্ত্রণ রাখা গেল না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তীব্র নিন্দা জানিয়ে পুরো ঘটনার দায় শাসক পক্ষ ও বিজেপির ঘাড়েই চাপিয়েছে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি।

  • ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব: এসএফআই-এর (SFI) রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে দাবি করেছেন, মৌলালিতে বিজেপির একটি সভা চলছিল। সেখান থেকেই একদল লোক ইচ্ছাকৃতভাবে ছাত্রদের বিশাল জনজোয়ারের মধ্যে ঢুকে পড়ে।

  • সংঘাত ও আক্রমণ: বামেদের দাবি, মিছিলকে বিপথে চালনা করার চেষ্টা করলে তাদের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে ওই দলটির বিতণ্ডা বাধে। পরে তারাই সাংবাদিকদের আক্রমণ করে এবং আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর ইট ছোটে। পুলিশের বিরুদ্ধেও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে বামেরা।

  • হাসপাতালে পরিদর্শন: ঘটনার রাতেই এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত সাংবাদিকদের দেখতে পৌঁছে যান ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব। তাঁরা স্পষ্ট জানান, আক্রান্ত সাংবাদিকরা তাঁদের পরিচিত এবং তাঁদের পাশে তাঁরা সর্বতোভাবে রয়েছেন।

সাংবাদিক মহলের প্রশ্ন:

ঘটনার পর সাংবাদিক মহলের একাংশের জোরাল বক্তব্য, মিছিলের ডাক বামেরা দিলেও শেষ পর্যন্ত তার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাত থেকে কীভাবে আলগা হয়ে গেল, সেই দায় তারা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যেতে পারে না।

শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঙ্কার:

সাংবাদিক নিগ্রহের এই ঘটনায় অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাতেই এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন তিনি। এরপরই তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন,

“শুক্রবারিরা চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে। কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। এদের কী করতে হয় আমি জানি। NEET-এর আন্দোলনের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। ওদের লোকজনই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।”

প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদের নামে কলকাতায় সাংবাদিকদের উপর এই শারীরিক আক্রমণ এবং রাজনৈতিক দলগুলির পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতি এখন আরও বেশি উত্তপ্ত।