২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বৃহস্পতিবার বীরভূমের সিউড়িতে এক বিশাল জনসভায় যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সভা থেকে তিনি তৃণমূলের চিরাচরিত স্লোগান ‘মা-মাটি-মানুষ’-কে কটাক্ষ করে রাজ্যের নারী সুরক্ষা ইস্যুতে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন। প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা— এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের নয়, বরং বাংলার মা-বোনেদের মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লড়াই।
আর জি কর ইস্যু ও নিহত চিকিৎসকের মা: এদিনের সভার সবথেকে বড় চমক ছিল আর জি কর কাণ্ডের নির্যাতিতার মায়ের উপস্থিতি। বিজেপি এবার আর জি করের সেই নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা-কে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করেছে। তাঁকে পাশে নিয়ে মোদী বলেন, “তৃণমূল আগে মা-মাটি-মানুষের কথা বলত, কিন্তু আজ বাংলার মা কাঁদছে। আর জি করের নৃশংস ঘটনা গোটা দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ এই রাজ্যের সরকার অপরাধীদের আড়াল করতে ব্যস্ত ছিল। আজ সেই মা বিচার চাইতে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছেন।”
মমতা সরকারকে আক্রমণ: প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনে বাংলার মাটি আজ দুষ্কৃতীদের দখলে। তিনি বলেন:
“বাংলার মা-বোনেরা এখন ঘরের বাইরে বেরোতে ভয় পান।”
“সন্দেশখালি থেকে আর জি কর— সর্বত্রই নারী নির্যাতনের এক বিভীষিকাময় চিত্র ফুটে উঠেছে।”
“যাঁরা নারী শক্তির অমর্যাদা করে, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে।”
নির্বাচনী অঙ্গীকার: মোদী দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে নারীদের সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হবে। ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর কথায়, “সোনার বাংলা গড়তে গেলে আগে আমাদের মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃণমূলের এই কুশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার এটাই সেরা সুযোগ।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আর জি করের নির্যাতিতার মা-কে প্রার্থী করে বিজেপি একদিকে যেমন আবেগীয় হাওয়াকে কাজে লাগাতে চাইছে, তেমনই নারী ভোটারদের বড় অংশকে নিজেদের দিকে টানার কৌশল নিয়েছে। সিউড়ির সভা থেকে মোদীর এই আক্রমণ ২০২৬-এর নির্বাচনে নারী সুরক্ষা ইস্যুকেই যে বিজেপির প্রধান হাতিয়ার করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।





