মাসে ৪১ হাজার টাকা বেশি বেতন! তাও পুণের চাকরির মোটা অফার কেন ফেরালেন এই ইঞ্জিনিয়ার? আসল কারণটা চমকে দেওয়ার মতো

নিজের বর্তমান উপার্জনের চেয়ে হুট করে মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বেশি বেতনের চাকরি পাওয়ার প্রস্তাব এলে কে না খুশি হয়? এমন লোভনীয় সুযোগ লুফে নেওয়াটাই তো সবার স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। কিন্তু শুধু বেশি আয়ের চক্করে নিজের চেনা শহর ছেড়ে অন্য মেট্রো সিটিতে পাড়ি দেওয়া কি আদৌ বুদ্ধিমানের কাজ? সোশ্যাল মিডিয়ায় এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের শেয়ার করা পোস্ট নিয়ে এখন নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
💼 মোটা অঙ্কের বেতন বনাম বাস্তব খরচের হিসাব
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (টুইটার) জয়দীপ নামের এক আইটি কর্মী তাঁর বন্ধুর একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।
জানা গিয়েছে, জয়দীপের ওই বন্ধু বর্তমানে ভারতের একটি দ্বিতীয় সারির (Tier-2) শহরে কর্মরত এবং মাসে ৮৪,০০০ টাকা বেতন পান। সম্প্রতি পুণের একটি আইটি সংস্থা তাঁকে প্রতি মাসে ১,২৫,০০০ (১.২৫ লাখ) টাকা বেতনের আকর্ষণীয় অফার দেয়। অর্থাৎ, বর্তমান বেতনের তুলনায় সোজা ৪১,০০০ টাকা বেশি!
প্রথম নজরে এই অফারটি অত্যন্ত লোভনীয় মনে হলেও, পুণেতে গিয়ে নতুন করে সংসার শুরু করার খরচের হিসাব কষতেই আসল সত্য সামনে আসে। জয়দীপ তাঁর বন্ধুকে সেই অফারটি তড়িঘড়ি গ্রহণ করার আগে দু’বার ভেবে দেখার পরামর্শ দেন।
🏠 কেন ছোট শহর ছেড়ে মেগাসিটি নয়?
জয়দীপ তাঁর পোস্টে স্পষ্ট ব্যাখ্যা করেছেন যে, ছোট শহরটিতে তাঁর বন্ধুর নিজের বাড়ি রয়েছে। ফলে প্রতি মাসে বাড়ি ভাড়ার কোনো ঝঞ্ঝাট নেই কিংবা হোম লোনের চড়া ইএমআই (EMI) গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়ায় না।
কিন্তু পুণের মতো আইটি হাবে পাড়ি দিলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যাবে:
বাড়ি ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ: পুণেতে পা রাখার সাথে সাথেই মোটা অঙ্কের ঘর ভাড়া, সিকিউরিটি ডিপোজিট, গ্রোসারি এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে।
জীবনযাত্রার মান ও যাতায়াত: মেগাসিটিতে যানজটের কারণে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ও জ্বালানি নষ্ট হয়। অন্যদিকে, ছোট শহরে বিশুদ্ধ বাতাস, ট্রাফিকহীন জীবন এবং প্রতি ঘরে পরিষ্কার পানীয় জলের মতো সুবিধাও মেলে।
ইঞ্জিনিয়ার জয়দীপের দাবি, সব খরচ হিসাব করলে দেখা যাবে মাসে ৪১,০০০ টাকা অতিরিক্ত বেতন পেলেও পুণেতে গিয়ে মাসের শেষে সঞ্চয়ের হাত শূন্যের কাছাকাছিই থেকে যাবে। উল্টে ছোট শহরে কম উপার্জনেও অনেক শান্তিতে ও বেশি টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব।
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চাকুরিজীবীদের একাংশ বিষয়টিকে সমর্থন করেছেন, আবার অনেকেই মেট্রো সিটির এক্সপোজার ও কেরিয়ার গ্রোথকে এগিয়ে রেখেছেন। আপনি হলে কী সিদ্ধান্ত নিতেন?