বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ে বিদায়! ৫৭০ কোটির ব্যবসা করে কোন বড় রেকর্ডের মালিক হলো ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’?

জনপ্রিয় ‘দৃশ্যম’ ফ্র্যাঞ্চাইজির শেষ পর্ব তথা ক্লাইম্যাক্স ছবি ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ প্রেক্ষাগৃহে তার সফল প্রদর্শনীর প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। আর বক্স অফিস থেকে বিদায় নেওয়ার আগে চলচ্চিত্রটি এক উল্লেখযোগ্য আর্থিক সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। নির্মাতা এবং সৃজনশীল দলের জন্য এটি একটি কেরিয়ারের অন্যতম সেরা ও সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রজেক্টটি বক্স অফিস থেকে ১৫০ কোটি রুপিরও বেশি নিট মুনাফা ঘরে তুলেছে। যার জেরে এটি ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ এবং ‘হনুমান অংশ’-এর পরেই চলতি বছরের তৃতীয় সর্বাধিক লাভজনক হিন্দি চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে।

খরচ ও আয়ের ভারসাম্য এবং শক্তিশালী পুনরুদ্ধার মডেল

ছবিটির এই অসাধারণ আর্থিক সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে একটি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত পুনরুদ্ধার মডেল, যা মূলত নির্মাণ ব্যয় এবং বিভিন্ন রাজস্ব বা আয়ের খাতের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করেছে।

চলচ্চিত্রটির মোট নির্মাণ ও মুক্তি সংক্রান্ত বা পাবলিসিটি বাবদ খরচ হয়েছিল প্রায় ২০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে মূল নির্মাণ বাজেট ছিল ১৭০ কোটি টাকা, প্রিন্ট ও বিজ্ঞাপনের (P&A) পেছনে খরচ হয়েছিল ২০ কোটি টাকা এবং পরিবেশনা বা ডিস্ট্রিবিউশন ফি বাবদ খরচ হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, প্রেক্ষাগৃহের শেয়ার এবং প্রেক্ষাগৃহ-বহির্ভূত অন্যান্য স্বত্ব মিলিয়ে মোট রাজস্ব বা আয় এসে দাঁড়িয়েছে ৩৬৬ কোটি টাকায়। স্টার স্টুডিওস এবং প্যানোরামা স্টুডিওসের মতো মূল অংশীদারদের জন্য এই পরিসংখ্যান একটি অত্যন্ত সফল বাণিজ্যিক যাত্রার ইঙ্গিত দেয়।

ডিজিটাল ও স্যাটেলাইট স্বত্বে দারুণ লাভ

চলচ্চিত্রটির আর্থিক ভিত আরও মজবুত হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে এর নন-থিয়েট্রিক্যাল বা প্রেক্ষাগৃহ-বহির্ভূত আয়ের উৎসগুলো। বক্স অফিসে সিনেমাটির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে এর ডিজিটাল স্বত্ব, যার প্রাথমিক বাজারমূল্য ছিল ১০০ কোটি টাকা, তা বেড়ে সোজা ১১৫ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।

পাশাপাশি, স্যাটেলাইট স্বত্ব বিক্রি থেকে এসেছে ১৫ কোটি টাকা এবং মিউজিক বা সঙ্গীতের স্বত্ব থেকে আয় হয়েছে ৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রেক্ষাগৃহের বাইরের এই খাতগুলো থেকে মোটা অঙ্কের রাজস্ব যুক্ত হয়েছে ছবির মোট আয়ে।

অন্যদিকে, থিয়েটার বা প্রেক্ষাগৃহের দিক থেকেও পরিসংখ্যান বেশ চমকপ্রদ। ভারতীয় বক্স অফিস বাজার থেকে পরিবেশকের অংশ হিসেবে এসেছে ১৮১ কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক বা বিদেশের বাজার থেকে আয় হয়েছে ৫২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে খরচ বাদ দিয়েও নির্মাতাদের পকেটে বিশাল অঙ্কের মুনাফা এনে দিয়েছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।