“সস্তা হচ্ছে কি তেল?” পেট্রল রপ্তানিতে কড়াকড়ি তুলে নিল কেন্দ্র, বিরাট নীতি বদল

দেশের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের নীতিগত বদল আনল কেন্দ্রীয় সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি ও দেশের অন্দরে জোগান স্বাভাবিক রাখতে পেট্রল রপ্তানির ওপর থেকে সম্পূর্ণভাবে শুল্ক তুলে নিল কেন্দ্র। তবে এর ঠিক উলটো ছবি দেখা গেল ডিজেল ও বিমান জ্বালানির (ATF) ক্ষেত্রে। এই দুই জ্বালানির রপ্তানিতে শুল্কের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত ৩১ অক্টোবর থেকেই দেশজুড়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।

কোন জ্বালানিতে শুল্ক কত কমল বা বাড়ল?

কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী:

  • পেট্রল: পেট্রল রপ্তানির ওপর এতদিন লিটারপ্রতি যে ২.৫০ টাকার অতিরিক্ত শুল্ক বা উইন্ডফল প্রফিট ট্যাক্স (Windfall Profit Tax) নেওয়া হতো, তা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে এখন পেট্রল রপ্তানিতে এই শুল্কের পরিমাণ নামল শূন্যে।

  • ডিজেল: উলটো ছবি দেখা গেছে ডিজেলের ক্ষেত্রে। ডিজেল রপ্তানির ওপর শুল্ক লিটারপ্রতি ৮.৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ১১.৫০ টাকা করা হয়েছে।

  • বিমান জ্বালানি (ATF): জেট ফুয়েল বা ATF-এর ক্ষেত্রেও শুল্ক সামান্য বাড়ানো হয়েছে। ১০.৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রতি লিটারে তা করা হয়েছে ১১ টাকা।

কেন এই সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র?

চলতি বছরের মার্চ মাস নাগাদ মধ্যপ্রাচ্য তথা পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম এবং জোগান নিয়ে মারাত্মক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সেই সময় দেশের বড় তেল সংস্থাগুলি বেশি মুনাফার লোভে দেশের বাজারে জোগান কমিয়ে বিদেশে জ্বালানি রপ্তানিতে ঝুঁকে পড়তে পারে—এই আশঙ্কায় গত ২৭ মার্চ পেট্রল, ডিজেল ও ATF রপ্তানির ওপর বিশেষ শুল্ক চাপিয়েছিল কেন্দ্র। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা সামাল দিতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন জোগান বজায় রাখতেই এই সংশোধন করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের পকেটে এর কী প্রভাব পড়বে?

কেন্দ্রের এই নতুন সিদ্ধান্তের জেরে কি দেশের বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের খুচরো দামে (Retail Price) কোনো পরিবর্তন আসবে? অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের পেট্রল বা ডিজেল কেনার দামে তাৎক্ষণিক কোনো হেরফের হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি হওয়া পেট্রল-ডিজেলের ওপর লাগু থাকা সাধারণ কর ও আবগারি শুল্ক অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ডিজেল রপ্তানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করায় বেসরকারি তেল সংস্থাগুলি বিদেশে জ্বালানি পাঠানোর চেয়ে দেশীয় বাজারে জোগান বাড়াতে বেশি উৎসাহিত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।