কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সাহসী নীতিগত সিদ্ধান্তের হাত ধরে ভারতীয় বন্ড মার্কেটে বিদেশি মুদ্রার জোয়ার এসেছে। সরকারি বন্ডে দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্পমেয়াদী মূলধনী লাভের ওপর থেকে কর বা ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স তুলে নেওয়ার ঘোষণার পরই বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FIIs) ভারতমুখী হয়েছেন। চলতি জুন মাসের মাত্র পাঁচটি কার্যদিবসেই ভারত প্রায় ১.৯ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১৭,০০০ কোটি টাকার বাম্পার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। গত ১৬ মাসের হিসেবে এটি ঋণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম সেরা রেকর্ড।
সাধারণত বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজারের অনিশ্চিত মুনাফার দিকে ছুটলেও, সরকারি বন্ড হলো অত্যন্ত নিরাপদ এবং সুনিশ্চিত আয়ের পথ। সরকার বিভিন্ন পরিকাঠামোগত প্রকল্পের উন্নয়নের জন্য এই বন্ড ইস্যু করে। আগে উচ্চ করের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে রেখেছিলেন। যেখানে চলতি অর্থবর্ষের এপ্রিল-মে মাসে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৩ কোটি ডলার, সেখানে ৬ জুনের করছাড়ের সিদ্ধান্তের পরই চিত্রটা বদলে যায়। লং-টার্ম ও শর্ট-টার্ম ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স এবং উইথহোল্ডিং ট্যাক্স তুলে নেওয়ায় ভারতের প্রতি বিদেশি লগ্নিকারীদের আস্থা বহুগুণ বেড়ে গেছে।
এই বিশাল বিদেশি ডলারের প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের ব্যালেন্স অফ পেমেন্ট ঘাটতি প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। এই করছাড়ের মাধ্যমে আসা বৈদেশিক মুদ্রা সেই ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করবে। এর ফলে ভারতীয় রুপি শক্তিশালী হবে, আমদানিকৃত তেল ও অন্যান্য সামগ্রীর খরচ কমবে এবং সার্বিকভাবে দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই পদক্ষেপটি ভারতের আর্থিক স্থিতিশীলতাকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।





