মার্কিন হামলায় কেঁপে উঠল ইরান! ৫ জনের মৃত্যুর বদলা নিতে কোন বড় হুংকার তেহরানের?

আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত এবার চরম আকার ধারণ করেছে। ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সারারাত ধরে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাম্প্রতিক হামলার চেষ্টার জবাব দিতেই এই সাঁড়াশি আক্রমণ চালানো হয়েছে। তবে এই রক্তক্ষয়ী হামলায় দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের শার্পনেল বা ধাতব টুকরো ছিটকে পড়ে এক শিশুসহ মোট ৫ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন। অসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা মার্কিন সেনাবাহিনী সরাসরি অস্বীকার করলেও পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি যুদ্ধকালীন রূপ নিয়েছে।

এই হামলার তীব্র জবাব দিতে বসে নেই তেহরানও। বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। এই সপ্তাহেই সরাসরি বোমাবর্ষণ পুনরায় শুরু হওয়ার পর নিজের প্রথম সতর্কবার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ওয়াশিংটনের জন্য ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে অত্যন্ত অবিস্মরণীয় শিক্ষা অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ইরান যদি এই যৌক্তিক হামলার কোনো ধরনের প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাদের ওপর এমন এক বিধ্বংসী আক্রমণ চালানো হবে যার ফলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের খুব সামান্য অংশই অবশিষ্ট থাকবে। বাহরাইন ও জর্ডনের মতো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীর বেপরোয়া আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের এই পালটা সামরিক অভিযান ততক্ষণ পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য গতিতে অব্যাহত থাকবে, যতক্ষণ না ওয়াশিংটন তাদের ভুল ও অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।