মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই বিশ্ব বাণিজ্যে ফের আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। বিশ্বের ১৪টি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন তিনি, যা ১লা আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। তবে, এই কঠোর শুল্কনীতির মধ্যেও ভারতের জন্য একটি স্বস্তির বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শীঘ্রই ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে।
সোমবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারস্পরিক শুল্ক অব্যাহতির সময়সীমা ৯ই জুলাই থেকে ১লা আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর আদেশে স্বাক্ষর করবেন। এর আগে গত ২রা এপ্রিল ট্রাম্প ভারত সহ বিভিন্ন দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছিলেন, যার তীব্র প্রতিবাদ হয়। সেই সময় তিনি ৯০ দিনের জন্য শুল্কে ছাড় দিয়েছিলেন, যার মেয়াদ ৯ই জুলাই শেষ হওয়ার কথা ছিল। এই নতুন সিদ্ধান্ত আলোচনার জন্য আরও তিন সপ্তাহ সময় দিচ্ছে।
শুল্কের কোপ যেসব দেশের ওপর:
ট্রাম্প প্রশাসন যেসব দেশের উপর নতুন শুল্ক আরোপ করেছে, তার মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে মিয়ানমার ও লাওসের ওপর। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ওপর ৩৬ শতাংশ, বাংলাদেশ ও সার্বিয়ার ওপর ৩৫ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়াও, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, কাজাখস্তান এবং তিউনিসিয়ার মতো দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই শুল্কের হার নির্ধারণ করছেন, যা প্রতিটি দেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্পর্কের ভারসাম্যহীনতা দূর করার লক্ষ্যে tailor-made পরিকল্পনা হিসেবে কাজ করবে।
ভারতের জন্য আশার আলো:
এই মুহূর্তে ভারত সেসব দেশের তালিকায় নেই, যাদের ওপর ট্রাম্পের এই নতুন শুল্কনীতি কার্যকর হচ্ছে। বরং, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্য দিল্লির জন্য সুখবর বয়ে এনেছে। তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” এর আগে ব্রিটেন এবং চীনের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করার কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের মতে, যেসব দেশকে শুল্কপত্র পাঠানো হয়েছে, তাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সেসব ক্ষেত্রে চুক্তির সম্ভাবনা কম হওয়ায় শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি না যে আমরা কোনো চুক্তি করতে পারব, তাই তাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বিশ্ব বাণিজ্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। এই শুল্কনীতি দেশগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করবে যাতে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘আরও ন্যায্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ’ বাণিজ্য সম্পর্কে আসতে রাজি হয়। তবে, এই কঠোরতার মধ্যেও ভারতের সঙ্গে একটি দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।