মায়ের কোল নয়, ঠিকানা হল বাঁশের মাচা! রতুয়ায় পরিত্যক্ত নবজাতককে ঘিরে আবেগঘন পরিবেশ, কী করবে পুলিশ?

সাতসকালে মালদহের রতুয়ায় এক চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নির্জন রাস্তার ধারে একটি বাঁশের মাচার ওপর থেকে উদ্ধার হলো এক সদ্যোজাত কন্যাসন্তান। কান্নার শব্দ শুনে এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন একদল প্রাতঃভ্রমণকারী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের ছায়া নেমে এসেছে।

যেভাবে উদ্ধার হলো শিশুটি

রবিবার ভোরে যখন রতুয়ার আকাশ পরিষ্কার হচ্ছিল, ঠিক তখনই প্রাতঃভ্রমণকারীরা রাস্তার ধারের একটি পরিত্যক্ত বাঁশের মাচা থেকে অস্ফুট কান্নার আওয়াজ পান। কাছে যেতেই তাঁদের চক্ষুচড়কগাছ! পাতলা কাপড়ে জড়ানো অবস্থায় সেখানে শুয়ে আছে এক ফুটফুটে নবজাতক। কনকনে ভোরের ঠান্ডা হাওয়ায় কাঁপছিল শিশুটি।

ঘটনাস্থলে জনস্রোত ও পুলিশি তৎপরতা

খবরটি চাউর হতেই আশেপাশে গ্রামের মানুষ ভিড় জমান। স্থানীয় এক বাসিন্দা দ্রুত শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে প্রাথমিক আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়।

  • শারীরিক অবস্থা: উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, শিশুটি সুস্থ রয়েছে। তবে দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডায় থাকায় তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

  • পুলিশি তদন্ত: কে বা কারা রাতের অন্ধকারে শিশুটিকে ফেলে রেখে গেল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে রতুয়া থানার পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় নার্সিংহোমগুলোর রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

“আমরা হাঁটতে বেরিয়ে হঠাৎ বাচ্চার কান্না শুনতে পাই। গিয়ে দেখি মাচায় পড়ে আছে। কোনো নিষ্ঠুর মা-বাবা এভাবে সন্তানকে ফেলে যেতে পারে ভাবলেই বুক ফেটে যাচ্ছে।” — উদ্ধারকারী এক প্রত্যক্ষদর্শী।

সমাজ নিয়ে প্রশ্ন

কেন আজও কন্যাসন্তানকে এভাবে রাস্তায় ফেলে যেতে হয়? এটি কি কেবল কন্যা ভ্রূণ হত্যার মানসিকতা নাকি এর পেছনে রয়েছে চূড়ান্ত দারিদ্র্য? রতুয়ার এই ঘটনা আবারও একবার সমাজের অন্ধকার দিককে সামনে এনে দিল। বর্তমানে শিশুটি চাইল্ড লাইনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং বহু মানুষ শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy