“প্রেম মানে না জাত, কুল, এমনকি সম্পর্কের বেড়াজাল” – এই প্রবাদ বাক্যটি যেন বাস্তব রূপ পেল মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানা এলাকায়। এক মামা-ভাগ্নির অপ্রচলিত প্রেম কাহিনি, যা সম্প্রতি পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়েছিল, এবার চরম পরিণতিতে এসে দাঁড়াল আত্মহত্যার চেষ্টার মধ্য দিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এ ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রেম, বিয়ে এবং সামাজিক বাধা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বহরমপুর থানা এলাকার এক যুবক এবং তার ভাগ্নির মধ্যে দীর্ঘ তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। সমাজ ও পরিবারের প্রচলিত রীতিনীতিকে উপেক্ষা করে, প্রায় তিন মাস আগে তাঁরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে, এই সম্পর্ক মেয়ের পরিবার একেবারেই মেনে নিতে পারেনি। অভিযোগ উঠেছে, তারা আইনি পথে মেয়েকে ফিরিয়ে আনার জন্য ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।
ভাড়া বাড়িতে নতুন জীবন, অতঃপর চরম পদক্ষেপ
বিয়ের পর মেয়েটি তার স্বামী (সম্পর্কে মামা) সহ হরিহরপাড়া থানা এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে। বুধবার সকালে এই যুগল জানতে পারেন যে, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই খবর পাওয়ার পরেই পরিস্থিতি তাদের কাছে অসহনীয় হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, এরপরেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে এই দুই প্রেমিক-প্রেমিকা কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
উদ্ধার ও বর্তমান অবস্থা
তাদের আর্তচিৎকারে আশেপাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাঁরাই দু’জনকে উদ্ধার করে দ্রুত হরিহরপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দু’জনের অবস্থাই স্থিতিশীল রয়েছে এবং তারা আশঙ্কামুক্ত।
আলোড়ন ও উদ্বেগের রেশ
এই ঘটনাটি গোটা এলাকায় এক মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। একদিকে একটি অপ্রচলিত সম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতি এবং অন্যদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আত্মহত্যার মতো চরম পদক্ষেপ, এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। সমাজবিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীরা এমন ঘটনাগুলির পেছনের সামাজিক ও পারিবারিক চাপ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ঘটনার পেছনের পূর্ণাঙ্গ কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে।





