হিমাচল প্রদেশের মান্ডিতে সাম্প্রতিক হড়পা বানের ভয়াবহতায় মাত্র দশ মাস বয়সী নিতিকা তার বাবা-মা এবং ঠাকুমাকে হারিয়ে অনাথ হয়ে পড়েছে। এই হৃদয় বিদারক ঘটনার পর, হিমাচল প্রদেশ সরকার ওই শিশুকন্যার সমস্ত দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার বড় হওয়া, পড়াশোনা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের সব দায়ভারই এখন রাজ্য সরকারের।
ঘটনাটি গত ৩০শে জুন রাতে মান্ডির তালওয়ারায় ঘটে। ওই রাতে বন্যার জল আটকাতে বাড়ির বাইরে যান নিতিকার বাবা, ৩১ বছর বয়সী রমেশ। তার পিছু পিছু যান রমেশের স্ত্রী রাধা দেবী (২৪) এবং মা পূর্ণুদেবী (৫৪)। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তাদের কেউই আর ফিরে আসেননি। রমেশের দেহ উদ্ধার হলেও, তার স্ত্রী এবং মা এখনও নিখোঁজ। এক রাতের মধ্যেই ছোট্ট নিতিকা বাবা-মা এবং ঠাকুমাকে হারিয়ে সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ে।
এমন নিদারুণ পরিস্থিতিতে, নিতিকাকে আশ্রয় দেন তাদের প্রতিবেশী প্রেম সিং। তিনিই নিতিকার এক আত্মীয় বলওয়ান্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যিনি হিমাচল প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুরের নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে, নিতিকা তার এক আত্মীয়ের বাড়িতেই রয়েছে।
তবে, হিমাচল প্রদেশ সরকার ২০২৩ সালে অনাথ শিশুদের জন্য চালু করা ‘সুখ-আশ্রয় যোজনা’ প্রকল্পের অধীনে নিতিকার যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এই যুগান্তকারী প্রকল্পের আওতায় অনাথ শিশুদের খাবার, জামাকাপড়, শিক্ষা এবং থাকার জায়গার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি, উচ্চশিক্ষা অথবা ব্যবসা শুরু করার জন্যেও রাজ্য সরকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। নিতিকার ক্ষেত্রেও এই সমস্ত সুবিধা প্রদান করা হবে বলে সরকার জানিয়েছে, যা এই দুঃখজনক ঘটনার মাঝেও এক মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।