মানসিক অবসাদই কি কারণ? এনজেপির বন্ধ ঘর থেকে উদ্ধার রেলকর্মীর অকাল প্রয়াণ!

নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) রেলওয়ে চত্বরে এক চরম বিষণ্ণতায় ঢাকা পড়ল শনিবারের সকাল। মেকানিক্যাল বিভাগে কর্মরত রেলকর্মী অরিন্দম রায় বর্মনের (৪৬) পচাগলা ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। কর্মস্থলে লাগাতার তিনদিনের অনুপস্থিতি এবং পরবর্তীতে উদ্ধার হওয়া এই দেহ এক শোকাবহ ঘটনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রের খবর, কোচবিহারের বাসিন্দা অরিন্দম বাবু পেশাগত কারণে এনজেপি এলাকাতেই বসবাস করতেন। গত কয়েকদিন তাঁর কোনো খোঁজ না মেলায় সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। দফতরের তরফ থেকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর দাদা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এবং তীব্র দুর্গন্ধ বের হওয়ায় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। দ্রুত এনজেপি থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেহটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ এখনও মুখ খোলেনি। অরিন্দম বাবুর ঘনিষ্ঠ মহল ও সহকর্মীদের দাবি, তিনি গত কিছুদিন ধরেই বেশ মানসিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। চাকরির চাপ নাকি ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা তাঁকে এই চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একনিষ্ঠ ও সদালাপী হিসেবে পরিচিত এই রেলকর্মীর মৃত্যুতে এনজেপি রেলওয়ে মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।