মাথা ফেটে রক্ত ঝরেছিল! খগেন মুর্মুর উপর হামলার পর রাজনীতি উত্তপ্ত, শুভেন্দুর পর এবার সুকান্তর সাক্ষাৎ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

জলপাইগুড়ির নাগরাকাটার দুর্যোগ কবলিত এলাকায় পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আক্রান্ত মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে দেখতে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে গেলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বুধবার হাসপাতালে ভর্তি থাকা সাংসদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন তিনি এবং তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।

সুকান্ত মজুমদারের আগে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও হাসপাতালে এসে খগেন মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

হামলার ঘটনা এবং চোট
গত ৬ অক্টোবর নাগরাকাটার বামনডাঙা এলাকায় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন সাংসদ খগেন মুর্মু এবং শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। অভিযোগ, সেখানেই তাঁরা বিক্ষোভের মুখে পড়েন। বামনডাঙায় তাঁদের গাড়ি লক্ষ্য করে লাঠি, জুতো এবং পাথর ছোড়া হয়। সেই পাথরের ঘায়ে খগেন মুর্মু গুরুতর জখম হন। তাঁর মাথা ফেটে রক্ত বেরোতে শুরু করে। এই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ সৃষ্টি করে।

হামলার পরই তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তোলে বিজেপি। যদিও শাসকদল তৃণমূল এই হামলায় তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে। পরিস্থিতি এমন হয় যে, বিজেপি সাংসদকে দেখতে হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

সুস্থতার খবর দিলেন সুকান্ত
হাসপাতালে সাংসদের সঙ্গে কথা বলার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আজ আমি খগেন মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছি। আমার দেখে খুবই ভাল লাগল যে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।”

তবে হাসপাতাল সূত্রের খবর, খগেন মুর্মুর চিকিৎসা চলছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে তাঁকে আরও কয়েক দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হবে। এই হাই-প্রোফাইল নেতার ওপর হামলার ঘটনা এবং এর জেরে বিজেপি নেতৃত্বের ঘন ঘন হাসপাতালে যাতায়াত— সামগ্রিক ভাবে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দিয়েছে।