মাত্র চার মাসেই দলের অন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা! তোলাবাজি রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য বিজেপি সভাপতির

রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর মোটে চার মাস পার হয়েছে। এর মধ্যেই শাসক দলের অন্দরে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মতো গুরুতর অভিযোগে অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য বিজেপি। দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এবার কড়া অবস্থান নিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দলের নীতির পরিপন্থী কাজ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে দলের ভাবমূর্তি যাতে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করতে একটি কড়া ভাষায় খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি।
রবিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে বিজেপির প্রশিক্ষণ শিবির থেকেও কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে জোরালো বার্তা দিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, অনেক বিধায়কের বিরুদ্ধেও অন্যায় কাজের অভিযোগ আসছে এবং এই ধরনের দুর্নীতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শমীকের এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র তরজা শুরু হয়। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, ওঁর কথা দলের কেউ শুনছে না, তাই আজ বিধায়কদের বের করে দেওয়ার হুমকি দিতে হচ্ছে। এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মাঝেই দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শমীক ভট্টাচার্য একটি খোলা চিঠি দেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, বিভিন্ন স্তরে কিছু কর্মীর অনভিপ্রেত কার্যকলাপ প্রশাসনের নজরে এসেছে। দলীয় নীতির বাইরে গিয়ে কেউ কাজ করলে দল তার কোনো দায় নেবে না। দুর্নীতি বা অপকর্মের অকাট্য প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্য, জেলা, অঞ্চল, মণ্ডল এবং বুথ স্তরের সমস্ত স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মীদের উদ্দেশে এই বার্তা পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রেখে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে কেবল সাধারণ কর্মীদের বিরুদ্ধে নয়, খোদ রাজ্য সভাপতির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজির গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার কাছে শমীক ভট্টাচার্যের নাম ও পদবি ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও তোলাবাজির চিঠি পাঠানোর ঘটনা ঘটে। এই বিষয়ে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তাঁর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সংস্থাকে ফোন করা হচ্ছে। তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন, তা এই ঘটনার পর আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে।