“মাঝ সমুদ্রে ঘেরাও ৩ বিদেশি জাহাজ”-আমেরিকা-ইরান সংঘাতের মাঝে ভারতের বড় অ্যাকশন!

মাঝ সমুদ্রে রুদ্ধশ্বাস অভিযান! আমেরিকা ও ইরানের চরম উত্তেজনার আবহে আরব সাগরে তিনটি সন্দেহভাজন ইরানি জাহাজ আটক করল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (Indian Coast Guard)। মুম্বই উপকূল থেকে প্রায় ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে সেগুলিকে পাকড়াও করা হয়। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। আটকের খবর জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ একটি পোস্ট করা হলেও, কিছুক্ষণ পরেই তা রহস্যজনকভাবে ডিলিট করে দেওয়া হয়।

পরিচয় বদলে ঘাপটি মেরেছিল জাহাজগুলি!

তদন্তকারী সূত্রের দাবি, আটক হওয়া জাহাজ তিনটির নাম— Stellar Ruby, Asphalt Star এবং Al Jafzia। অভিযোগ, ভারতীয় বাহিনীর নজর এড়াতে জাহাজগুলি বারবার নিজেদের নাম ও পরিচয় বদলাচ্ছিল। বর্তমানে সেগুলিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুম্বই বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই জাহাজগুলোর সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই।

কেন এই কড়াকড়ি? কী এই ‘শিপ টু শিপ’ ট্রান্সফার?

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর, অবৈধ লেনদেন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই জাহাজগুলি ‘শিপ টু শিপ’ (Ship-to-Ship) পদ্ধতিতে তেল বা পেট্রোলিয়াম পণ্য পাচার করছিল বলে প্রাথমিক অনুমান।

সহজ ভাষায়: এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে মাঝ সমুদ্রে পণ্য সরিয়ে ফেলা হয় যাতে মূল উৎস দেশটিকে চিহ্নিত করা না যায়। ট্র্যাকিং জটিল করতেই এই কারসাজি করা হয়। ভারত সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের জলসীমা ব্যবহার করে এমন কোনও বেআইনি কারবার বরদাস্ত করা হবে না।

আমেরিকার সঙ্গে কি কোনো যোগসূত্র রয়েছে?

বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনার নেপথ্যে বড় ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ দেখছেন। চলতি মাসেই ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেওয়ায় মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০% থেকে কমিয়ে ১৮% করা হবে। ঠিক এই সময়েই ইরানের ওপর খড়্গহস্ত হয়েছে আমেরিকা। মজার বিষয় হলো, ২০২৫ সালে আমেরিকা যে তিনটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল, সেগুলোর নম্বরের সঙ্গে ভারতে আটক হওয়া জাহাজগুলোর অদ্ভুত মিল পাওয়া যাচ্ছে।

বর্তমানে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের সামুদ্রিক অঞ্চলে ৫৫টি জাহাজ এবং ১০-১২টি বিমান দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালাচ্ছে উপকূলরক্ষী বাহিনী।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy