২০২৬-এর ভোটগণনার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে উত্তর কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রকে ঘিরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা, সিসিটিভি নজরদারি এবং ইভিএম সংরক্ষণ নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনার পারদ শনিবার সকালে তুঙ্গে পৌঁছায়, যখন খোদ বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজাকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাধার মুখে পড়তে হয়।
রাতের পাহারায় মমতা, সকালে বাধার মুখে শশী:
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হঠাৎই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে পৌঁছে যান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই অতর্কিত পরিদর্শনে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। তৃণমূলের দাবি, স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় ফাঁক রয়েছে। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার সকালে শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা সেখানে পৌঁছালে পরিস্থিতি জটিল হয়। সকাল ১১টা নাগাদ তাঁকে মূল প্রবেশদ্বারে আটকে দেয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। মন্ত্রীর সাথে বাহিনীর জওয়ানদের তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। বেশ কিছুক্ষণ টানাপোড়েনের পর অবশ্য তাঁকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। শশী পাঁজার অভিযোগ, “একজন প্রার্থী হিসেবে নিজের কেন্দ্রের ইভিএম পাহারা দেওয়ার অধিকার আমার আছে, সেখানে বাধা দেওয়া সন্দেহজনক।”
৮টি ইভিএম ও ‘অন্ধকার’ ঘর:
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ইভিএম সংরক্ষণ নিয়ে। তৃণমূলের দাবি, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের একটি নির্দিষ্ট ঘরে ৮টি ইভিএম রাখা হয়েছে যা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে। কোনো রকম নজরদারি ছাড়াই এই ইভিএমগুলি কেন আলাদা করে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে শাসক দল। তাদের দাবি, সিসিটিভির বাইরে ইভিএম রাখা স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিপন্থী এবং এটি বড়সড় কারচুপির ইঙ্গিত হতে পারে।
দু’মানুষ উঁচু ব্যারিকেড ও ১৬৩ ধারা:
ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র এবং সংলগ্ন নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম (যা গণনাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে) এখন কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গ। পুরো এলাকাকে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও কলকাতা পুলিশ। নিরাপত্তার খাতিরে মূল প্রবেশদ্বারে ৮ ফুট উঁচু লোহার গেট এবং গণনাকেন্দ্রের সামনে দু’মানুষ সমান উঁচু ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। অশান্তি এড়াতে পুরো এলাকায় ইতিমধেই ১৬৩ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। সিসিটিভি ক্যামেরায় চলছে চব্বিশ ঘণ্টার কড়া নজরদারি।
এত কড়াকড়ির মধ্যেও সিসিটিভির বাইরে ৮টি ইভিএম থাকার খবর গণনার আগে এক বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছে। ৪ মে-র মহারণের আগে বাংলার নজর এখন উত্তর কলকাতার এই স্ট্রং রুমের দিকেই।





