মাঝরাতে নিউ মার্কেট চত্বরে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! শিকা ইন হোটেলের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিচয় নিয়ে চাঞ্চল্য

কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বেসরকারি হোটেলে ঘটা এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা শহরে। নিউ মার্কেট থানার অন্তর্গত ১৫ নম্বর মির্জা গালিব স্ট্রিটের সুপরিচিত ‘শিকা ইন’ হোটেলে লাগা এই বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে অবশেষে একজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। মৃত ওই যুবকের নাম সন্দীপ পাসওয়ান, বয়স মাত্র ১৯ বছর। ঝাড়খণ্ডের গিরিডির বাসিন্দা সন্দীপ ওই হোটেলটিতেই কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে জীবিকার সন্ধানে ঝাড়খণ্ড থেকে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে সন্দীপের কাকা সীতারাম পাসওয়ান ও মন্টু পাসওয়ান তাঁর মৃতদেহ দেখে পরিচয় নিশ্চিত করেন। তবে রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ভোররাতে আনুমানিক ২টো নাগাদ নিউ মার্কেট এলাকার ওই হোটেলে হঠাৎই দাউদাউ করে আগুন লেগে যায়। গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয়রাই পুলিশকে খবর দেন। মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিউ মার্কেট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। খবর পাঠানো হয় দমকল দফতর ও সিইএসসি (CESC)-র কাছেও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের সদর দফতর এবং ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ফায়ার স্টেশন থেকে মোট চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয়। শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আগুন নেভানো ও উদ্ধারকাজ। পুলিশি নিরাপত্তায় দীর্ঘ প্রায় আড়াই ঘণ্টার কঠিন উদ্ধার অভিযানে হোটেলটির বিভিন্ন কক্ষ থেকে প্রায় ৬০ জন আটকে থাকা অতিথিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

তবে এই উদ্ধারকাজের সময়ই হোটেল চত্বর থেকে দুই মহিলা ও একটি শিশুসহ মোট ৯ জনকে সম্পূর্ণ অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁদের দ্রুত কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টার পর ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ দমকল কর্মীরা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। বর্তমানে পুরো এলাকাটি পুলিশি পাহারায় ঘিরে রাখা হয়েছে। হোটেলের ভেতরে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক ও পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে যে, নিহত ৯ জনের মধ্যে একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা হলেও বাকি ৮ জনই বাংলাদেশি নাগরিক হতে পারেন। যদিও পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দেওয়া হয়নি, তবে কলকাতার বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের প্রতিনিধি এমডি খালেদ ইতিমধ্যেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, পুলিশি পরিচয়পত্র ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর মৃতদেহগুলি শনাক্ত করে কূটনৈতিক নিয়মে বাংলাদেশে তাঁদের নিজ নিজ ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। ওপার বাংলা থেকেও বহু মানুষ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাঁদের দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সব মিলিয়ে এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।