মাঝআকাশে ৯/১১ স্টাইলের নাশকতার ছক! রক্তে ভেসে যাওয়া মুখেও বিমানের ১৭৪ যাত্রীকে বাঁচালেন ভারতীয় পাইলট

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ‘ফ্লাইদুভাই’-এর এফজেড১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক ঘটনাকে খোদ ৯/১১-র সঙ্গেই তুলনা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মাঝআকাশে কো-পাইলটের অতর্কিত ও নৃশংস ছুরিকাঘাতে হাত, মুখ ও মাথা কার্যত ফালাফালা হয়ে গেলেও চরম প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব এবং অসীম সাহসের পরিচয় দিয়ে ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, ওমানের নাগরিক ওই কো-পাইলট মাঝআকাশে বিমানটি ক্র্যাশ করানোর বা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ভয়ঙ্কর চেষ্টা করেছিলেন। ককপিটের ভেতরে বারবার ছুরি দিয়ে কোপানোর ফলে গুরুতর জখম হন ক্যাপ্টেন স্মিত। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর রক্তচাপ কমতে শুরু করে এবং তিনি জ্ঞান হারাতে বসেন। তবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েও তিনি নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। ঠিক সেই সময় বিমানে থাকা এক ইজরায়েলি দন্ত চিকিৎসক তথা একমাত্র চিকিৎসক ডঃ শোটা মোসায়েভ এবং অন্যান্য যাত্রীরা ছুটে এসে ককপিটে প্রবেশ করেন। যাত্রীরা সাহসিকতার সঙ্গে হামলাকারীকে হেডফোন ও জিপ-টাই দিয়ে শক্ত করে বেঁধে ফেলেন এবং ডঃ মোসায়েভ মারাত্মক জখম ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অফ-ডিউটি পাইলটদের সহায়তায় বিমানটিকে নিরাপদে উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বর্তমানে তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ক্যাপ্টেন স্মিত, এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে রিয়াদের ভারতীয় দূতাবাস। এই অবিশ্বাস্য সাহসিকতা এবং জীবন বাঁচানোর নজির গড়ার জন্য বিশ্বনেতাদের কুর্নিশ কুড়াচ্ছেন এই ভারতীয় বীর।