গয়ায় পিণ্ডদান করলে কি সত্যিই সাত পুরুষের মোক্ষ প্রাপ্তি ঘটে? গরুড় পুরাণের গোপন ও রহস্যময় তথ্য জানুন

পিতৃপক্ষের পবিত্র সময়ে পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি এবং তাঁদের আশীর্বাদ পাওয়ার উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ, তর্পণ ও পিণ্ডদান করার প্রাচীন প্রথা হিন্দুধর্মে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সারা দেশে এমন বহু তীর্থক্ষেত্র থাকলেও, বিহারের গয়াকে পিতৃঋণ মুক্তির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ও প্রধান পবিত্র ভূমি হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ঠিক কেন গয়ায় পিণ্ডদান করাকে এত বেশি বিশেষ ও জনপ্রিয় বলে মনে করা হয়? গয়ায় গিয়ে পিণ্ডদান করলে কি সত্যিই পূর্বপুরুষদের মোক্ষ লাভ হয়?
পৌরাণিক বিশ্বাস এবং হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, গয়া হলো সেই পবিত্র ভূমি যেখানে খোদ ভগবান বিষ্ণু অবস্থান করেন। বিষ্ণু পুরাণ এবং বায়ু পুরাণেও গয়ার মহিমা ও গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। শাস্ত্রীয় বিধান মেনে গয়ার ফাল্গুনী নদীর তীরে পিণ্ডদান ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন করলে পূর্বপুরুষরা অতৃপ্তির যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পান। এমনকি ‘গরুড় পুরাণ’-এর বর্ণনা অনুযায়ী, গয়ার মাটিতে দাঁড়িয়ে সঠিক নিয়মে পিণ্ডদান করলে কেবল এক বা দুটি প্রজন্ম নয়, বরং ১০৮টি বংশ এবং সাতটিরও বেশি প্রজন্মের পূর্বপুরুষেরা নরক যন্ত্রণা থেকে চিরতরে মুক্তি ও পরম মোক্ষ লাভ করেন।
গয়ার এই পিণ্ডদান প্রথার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক যোগসূত্র। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ত্রেতাযুগে স্বয়ং ভগবান রাম, মাতা সীতা এবং ভাই লক্ষ্মণকে সঙ্গে নিয়ে ফাল্গুনী নদীর তীরে পিতা রাজা দশরথের আত্মার শান্তির উদ্দেশ্যে পিণ্ডদান করেছিলেন। সেইকাল থেকেই পূর্বপুরুষদের তর্পণ ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের ক্ষেত্রে গয়া তীর্থের গুরুত্ব ও মহিমা সনাতন ধর্মে অনন্য মর্যাদায় ভূষিত হয়ে আসছে।